2025-08-30
Ramnagar, Agartala,Tripura
দেশ বিশ্ব

তিয়ানজিনে মোদীকে রঙিন অভ্যর্থনা, দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে নজর আন্তর্জাতিক মহলের

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- চীনের তিয়ানজিন শহরে শনিবার বিকেলে পৌঁছালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার থেকে শুরু হওয়া দুই দিনের শাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্যই এই সফর। জাপান সফর শেষ করে সেদিনই টোকিও থেকে রওনা দিয়ে তিনি তিয়ানজিনের বিনহাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। সেখানেই তাঁকে দেওয়া হয় রঙিন অভ্যর্থনা।

বিমান থেকে নামার পর এক্সে নিজের প্রতিক্রিয়ায় মোদী লেখেন— “তিয়ানজিনে অবতরণ করেছি। এসসিও সম্মেলনে ফলপ্রসূ আলোচনা ও বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার অপেক্ষায় রয়েছি।”

শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মোদীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রবিবার তাঁর সঙ্গে বৈঠকে বসবেন চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং। সোমবার নির্ধারিত রয়েছে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে রাশিয়ার কাজানে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের সাইডলাইনে সর্বশেষ মোদী–শি বৈঠক হয়েছিল। তার আগে দীর্ঘ চার বছরের সীমান্ত সংঘাতের অবসান ঘটাতে ৩,৫০০ কিমি দীর্ঘ প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় (LAC) টহল সংক্রান্ত চুক্তিতে পৌঁছেছিল ভারত ও চীন। সেই সমঝোতার ফলেই দু’দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার নতুন পথ তৈরি হয়।

২০১৭ সালে এসসিও-র পূর্ণ সদস্যপদ পাওয়া ভারতের ভূমিকা দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ২০২২-২৩ সালে ভারত সভাপতিত্বও করেছে সংস্থাটির। সেই সময়ে উদ্ভাবন, স্বাস্থ্য এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা শুরু করেছিল ভারত।

নিজের সফর নিয়ে রওনা দেওয়ার আগে দেওয়া বিবৃতিতে মোদী বলেন— “ভারত এসসিও-র সক্রিয় ও গঠনমূলক সদস্য। আমরা যৌথ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও আঞ্চলিক সহযোগিতা গভীর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শি জিনপিং, ভ্লাদিমির পুতিন এবং অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে আলোচনার অপেক্ষায় আছি।

”মোদীর মতে, জাপান ও চীন সফর মিলিয়ে এই সফর ভারতের জাতীয় স্বার্থ এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নে সহযোগিতা গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

২০০১ সালের ১৫ জুন সাংহাইয়ে গঠিত হয় এসসিও। বর্তমানে এর সদস্য দেশগুলি হলো— চীন, রাশিয়া, ভারত, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, পাকিস্তান, উজবেকিস্তান, ইরান ও বেলারুশ।

তাছাড়া আফগানিস্তান ও মঙ্গোলিয়া রয়েছে পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র হিসেবে। ১৪টি সংলাপ সহযোগী দেশও যুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে তুরস্ক, নেপাল, সৌদি আরব, মিশর, কাতার, শ্রীলঙ্কা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। তিয়ানজিনে এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নতুন দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সমীকরণে নজর রাখছে গোটা আন্তর্জাতিক মহল।

    Leave feedback about this

    • Quality
    • Price
    • Service