দক্ষিণ জয়পুরে স্বতঃস্ফূর্ত উচ্ছেদ: ১৯ পরিবার নিজেরাই ভেঙে দিল বসতঘর

Date:

জনতার কলম আগরতলা প্রতিনিধি :-আগরতলার দক্ষিণ জয়পুর পশ্চিমপাড়া শনিবার ভোরে এক অনন্য দৃশ্যের সাক্ষী হয়ে দাঁড়ায়। দীর্ঘ ৪০–৪৫ বছর ধরে হাওড়া নদীর তীরে সরকারি জমিতে বসবাসকারী ১৯টি পরিবার নিজেরাই বসতঘর ভেঙে ফেলে প্রশাসনের উপস্থিতিতে। সকাল ৪টা ৪৫ মিনিটে শুরু হওয়া এই উচ্ছেদ অভিযান স্মার্ট সিটি প্রকল্পের অংশ হিসেবে হাওড়া নদীর বাধ নির্মাণ কাজের জন্য অপরিহার্য ছিল।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পৌর নিগম, এসডিএম, তহশিলদার এবং পুলিশ এই অভিযানে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন। উচ্ছেদকালে পৌর নিগমের কর্মীরাও কার্যক্রমে সহযোগিতা প্রদান করেন। পরিবারগুলোকে সরকারি নোটিশের মাধ্যমে অবহিত করা হয় এবং তারা আইন মেনে নিজেদের বসতঘর ভেঙে দেয়।

এই শান্তিপূর্ণ ও স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ দেখে প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, পরিবারগুলোর সহযোগিতা এবং সমঝোতা অভিযানের জন্য বড় সুবিধা তৈরি করেছে।

উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা আশা করছেন সরকারের পক্ষ থেকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। এলাকার বিধায়ক ও মেয়র ইতিমধ্যেই পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি স্থানীয় কাউন্সিলার নিতু দে গুহ প্রতিনিয়ত পরিবারের খোঁজখবর নিচ্ছেন। এই মানবিক মনোভাব পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আশার আলো জোগাচ্ছে।

একজন বাসিন্দা বলেন, “আমরা জানি এই জমি সরকারি। তাই আমরা আইন মেনে নিজে ঘর ভেঙেছি। এখন শুধু চাই, সরকার আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিক।”

পরিবারগুলো মনে করিয়ে দিয়েছেন, ছোট শিশু, বৃদ্ধ এবং মহিলাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। তাই তারা জেলা শাসকের কাছে আবেদন করেছেন যাতে পুনর্বাসন কার্যক্রম দ্রুত কার্যকর করা হয়।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, হাওড়া নদীর তীরে বাধ নির্মাণ কাজ দ্রুত অগ্রসর করার জন্য এই উচ্ছেদ অভিযান গুরুত্বপূর্ণ। স্মার্ট সিটি প্রকল্পের অংশ হিসেবে নদীর দুর্গম এলাকা এবং অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নদী সংরক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

উচ্ছেদ অভিযান চলাকালীন কোনো ধরনের উত্তেজনা বা বাধার সৃষ্টি হয়নি। পরিবারগুলো শান্তভাবে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এই সহযোগিতার প্রশংসা করেছেন এবং জানিয়েছেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পুনর্বাসন ব্যবস্থা দ্রুত করা হবে।

পৌর নিগম ও জেলা প্রশাসন একত্রে কাজ করে নিশ্চিত করছেন যে, নতুন করে জীবন শুরু করার জন্য পরিবারগুলোকে যথাযথ সহায়তা দেওয়া হবে। স্থানীয় কাউন্সিলার নিতু দে গুহ বলেন, “পরিবারগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঘর ভেঙেছে। তাদের পুনর্বাসন আমাদের অগ্রাধিকার।”

এমন শান্তিপূর্ণ ও স্বেচ্ছাসেবী উচ্ছেদ উদ্যোগ স্থানীয় প্রশাসনের জন্য একটি ইতিবাচক উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে সম্মান ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পুনর্বাসন নিশ্চিত করা হলে তারা নতুন করে জীবন শুরু করতে পারবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

এই ঘটনার মাধ্যমে দেখা যায়, আইন মেনে ও সহযোগিতামূলক মনোভাব বজায় রেখে উচ্ছেদ অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব। হাওড়া নদীর তীর সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের স্বার্থ রক্ষা করা গেলে এটি স্থানীয় প্রশাসনের জন্য একটি শিক্ষণীয় উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

সর্বশেষ, পরিবারগুলো এখন জেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগের ওপর ভরসা রাখছেন। তারা বিশ্বাস করেন, সরকার ও স্থানীয় প্রতিনিধি তাদের নতুন আশ্রয়স্থল নিশ্চিত করবে এবং ভবিষ্যতে নিরাপদ জীবনযাপনের সুযোগ প্রদান করবে।

Share post:

Subscribe

AD

Popular

More like this
Related

দিল্লি হাইকোর্টে মদ নীতি মামলা: ৪ মে শুনানি, কেজরিওয়াল-সিসোদিয়ার অনুপস্থিতি

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- দিল্লির বহুল আলোচিত আবগারি (মদ)...

পাকিস্তানের ফতেহ-২ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারের দাবি

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- পাকিস্তান নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘ফতেহ-২’...

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান প্রেসিডেন্ট আউনের, হামলার নিন্দা

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে দুই...

ঝড়-বৃষ্টির প্রভাব মোকাবিলায় তৎপর প্রশাসন, উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার কড়া বার্তা

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাত...