মেডিক্যাল কলেজে কোন অনৈতিক কার্যকলাপ সহ্য করা হবেনা: মুখ্যমন্ত্রী

Date:

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- মেডিক্যাল কলেজে কোন শিক্ষক বা চিকিৎসকের অনৈতিক কার্যকলাপ সহ্য করা হবেনা এবং দোষী প্রমাণিত হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আজ বিধানসভায় ত্রিপুরা মেডিক্যাল কলেজে পাশ করিয়ে দেবার নাম করে সম্প্রতি অর্থ আদায় করার ঘটনা সম্পর্কে একটি দৃষ্টি আকর্ষনী নোটিশের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা জানান।

দৃষ্টি আকর্ষনী নোটিশের জবাবে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, কয়েকজন মেডিক্যাল ছাত্র ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি, ত্রিপুরা মেডিক্যাল কলেজ ও ড. বিআরএএম টিচিং হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারিনটেন্ডেন্টের কার্যালয়ে অধ্যাপক (ডা) সোমা চৌধুরী, বিভাগীয় প্রধান, শারীরবিদ্যা বিভাগ, ত্রিপুরা মেডিক্যাল কলেজের বিরুদ্ধে ১ম পেশাগত এমবিবিএস বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষার ফলাফলের ক্ষেত্রে অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।

ত্রিপুরা সরকারের মেডিক্যাল শিক্ষা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক ত্রিপুরা মেডিক্যাল কলেজ পরিদর্শন করেন এবং বিষয়টি অবিলম্বে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত ১ম পেশাগত বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া তিনজন এমবিবিএস শিক্ষার্থী, অধ্যাপক (ডা.) সোমা চৌধুরীর বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে পরীক্ষায় পাশ করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার অভিযোগ দায়ের করেন। অধ্যাপক (ডা.) সোমা চৌধুরীর এই অনৈতিক কাজ সম্পর্কে ত্রিপুরার একাধিক স্থানীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রাপ্ত তথ্য এবং অভিযোগের ভিত্তিতে অপরাধ দমন শাখা থানায় একটি এফআইআর দায়ের করে, যা ১২-০২-২০২৫ তারিখে অপরাধ দমন শাখা পিএস মামলা নম্বর: ২০২৫ টিপিসিবি ০০১ হিসেবে নথিভুক্ত হয়।

মামলাটি ভারতীয় দন্ডবিধির ৩০৮ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৮৮ এর ৭/৭এ/১১ ধারায় রুজু করা হয়। এফআইআর-এর তদন্ত চলছে। ত্রিপুরা মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ অধ্যাপক (ডা.) সোমা চৌধুরীকে ০৭-০২-২০২৫ তারিখে অবিলম্বে সাময়িক বরখাস্ত করে এবং তার বিরুদ্ধে আনিত দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে ব্যাখ্যা চেয়ে শোকজ নোটিশ জারি করে। শোকজ নোটিশের জবাবে অধ্যাপক চৌধুরী অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং দাবি করেন যে, তিনি কয়েকজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিলেন এবং সুদসহ সেই ঋণ পরিশোধ করেছেন। তিনি পরীক্ষায় পাশ করিয়ে দেওয়ার জন্য অর্থ গ্রহণের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। অধ্যাপক চৌধুরী তার দাবির পক্ষে নথিপত্র দাখিল করেন, যা বর্তমানে পর্যালোচনাধীন রয়েছে। পর্যালোচনা শেষে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের তদন্তে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা ও সম্ভাব্য সহযোগীদের নাম প্রকাশিত হতে পারে।

ত্রিপুরা সরকারের মেডিক্যাল শিক্ষা অধিদপ্তর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষায় মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনতে, দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনা করেন। ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার (পরীক্ষা) ০৭-০৩-২০২৫ তারিখে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাকেন্দ্র শাখার সম্মেলন কক্ষে ত্রিপুরা সরকারের মেডিক্যাল শিক্ষা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক, আগরতলা সরকারি মেডিক্যাল কলেজ এবং ত্রিপুরা মেডিক্যাল কলেজের ৯ জন সিনিয়র অধ্যাপক এবং ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারি রেজিস্ট্রার (পরীক্ষা) এর উপস্থিতিতে একটি বৈঠক আহ্বান করেন।

বৈঠকে উপস্থিত সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন এবং সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধন্ত নেন যে, জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন (এনএমসি)-এর নির্দেশিকা অনুসারে, বিশ্ববিদ্যালয় এমবিবিএস কোর্সের উত্তরপত্রগুলির কেন্দ্রীয় মূল্যায়ন শুরু করবে। বৈঠকে এটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, ২০২৫ সাল থেকে (অর্থাৎ ১ম পেশাগত এমবিবিএস পরীক্ষা) কেন্দ্রীয় মূল্যায়ন শুরু হবে এবং কেন্দ্রীয় মূল্যায়ন কেন্দ্র ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়াও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, মেডিক্যাল কলেজ (সরকারি/ বেসরকারি) নির্বিশেষে উত্তরপত্রগুলির জন্য একটি একক কোডিং সিস্টেম (প্রতিটি উত্তরপত্রের জন্য একটি ইউনিক কোড) থাকবে এবং উত্তরপত্রের শীর্ষ পৃষ্ঠায় শিক্ষার্থীর বিবরণ মুছে ফেলা হবে এবং এই ইউনিক কোড নম্বর শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানবে। উত্তরপত্র মূল্যায়নকারী শিক্ষার্থীর পরিচয় বা নির্দিষ্ট মেডিক্যাল কলেজ সম্পর্কে কিছুই জানবেন না।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, পরীক্ষার মূল্যায়ন বিষয়েও বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে থিয়োরি পরীক্ষার উত্তরপত্র শুধুমাত্র যোগ্য অভ্যন্তরীণ পরীক্ষক দ্বারা মূল্যায়ণ করা হবে। ব্যবহারিক/মৌখিক পরীক্ষা (প্রপ্র্যাক্টিক্যাল/ভাইভা) অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক উভয় পরীক্ষকের উপস্থিতিতে পরিচালিত হবে। ত্রিপুরা সরকারের মেডিক্যাল শিক্ষা পরিচালনা দপ্তর, ত্রিপুরা মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে যে, শিক্ষক ও অধ্যাপকদের মূল্যায়ণ প্রক্রিয়া জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন (এনএমসি) দ্বারা নির্ধারিত ৩৬০ ডিগ্রি মূল্যায়ণ (ক্লিনিকাল দক্ষতা, আন্তঃব্যক্তিক দক্ষতা, যোগাযোগের ক্ষমতা এবং পেশাদারিত্বের স্তর, একাধিক উৎস থেকে প্রতিক্রিয়া সমন্বয় করা) দ্বারা নিশ্চিত করতে হবে।

জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন (এনএমসি) মেডিক্যাল এথিক্স রেগুলেশনস, ২০০২ (৮ অক্টোবর, ২০১৬ পর্যন্ত সংশোধিত) এর অধ্যায় ৮-এ চিকিৎসা পেশাজীবীদের অপরাধ ও পেশাদারী অসদাচরণের জন্য শাস্তি ও শৃঙ্খলা পদক্ষেপের বিষয়ে উল্লেখ করেছে, যদি তারা দোষী সাব্যস্ত হয়।

Share post:

Subscribe

Popular

More like this
Related

রাজ্য মন্ত্রিসভায় বড় সিদ্ধান্ত: ১১২টি পদে নিয়োগ, নতুন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালুর ঘোষণা

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- আজ অনুষ্ঠিত রাজ্য...

শিক্ষক বদলিকে ঘিরে সাব্রুম স্কুলে বিক্ষোভ, তালা ঝুলল গেটে

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- সাব্রুম উচ্চতর মাধ্যমিক...

বেআইনি সিলিন্ডার মজুতের অভিযোগে তল্লাশি, উদ্ধার ৬০টি

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- ধর্মনগরে বেআইনি গ্যাস...

ভোটগণনা ঘিরে কড়াকড়ি, পশ্চিমবঙ্গে অতিরিক্ত পর্যবেক্ষক মোতায়েন নির্বাচন কমিশনের

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- পশ্চিমবঙ্গে ভোটগণনা প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও...