জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (TTAADC)-এর সাধারণ নির্বাচন এবং গ্রাম কমিটি (Village Committee)-র নির্বাচন একসঙ্গে করার নির্দেশ দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে ‘বড় জয়’ হিসেবে দেখছে তিপ্রা মথা পার্টি।
দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মা সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে জানান, “সুপ্রিম কোর্ট আজ নির্দেশ দিয়েছে, রাজ্য নির্বাচন কমিশন যেন TTAADC এবং গ্রাম কমিটির নির্বাচন একইসঙ্গে করে। আমাদের জন্য এটা বিরাট জয়। প্রায় এক দশক পরে গ্রাম স্তরে ভোট হতে চলেছে।”
উল্লেখযোগ্যভাবে, TTAADC এলাকার গ্রাম কমিটিগুলির মেয়াদ শেষ হয়েছিল ২০১৬ সালে। এরপর দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে কোনও নির্বাচন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিল তিপ্রা মথা সহ একাধিক সংগঠন। তাদের অভিযোগ ছিল, ভোট না করিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। প্রথমদিকে কোভিড পরিস্থিতির কারণে ভোট পিছোনোর কথা বলা হলেও, পরবর্তীতে আর কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
যদিও গ্রাম কমিটি ব্যবস্থাকে অনেকেই সাধারণ এলাকার পঞ্চায়েত ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করেন, বাস্তবে দু’টির কাঠামো এক নয়। TTAADC এলাকায় গ্রাম কমিটি এক স্তরের প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়, যেখানে সাধারণ এলাকায় তিন স্তরের পঞ্চায়েত ব্যবস্থা কার্যকর।
বর্তমানে তিপ্রা মথা পার্টির নেতৃত্বাধীন পরিষদ ২০২১ সালে ক্ষমতায় আসে এবং তাদের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষের পথে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে TTAADC-এর সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। সেই সঙ্গেই এবার গ্রাম কমিটির ভোটও অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, TTAADC এলাকায় মোট ৫৮৭টি গ্রাম কমিটি রয়েছে। অন্যদিকে জেলা পরিষদের মোট আসন সংখ্যা ২৮। ভোটগ্রহণ পদ্ধতিতেও রয়েছে পার্থক্য। জেলা পরিষদের নির্বাচন হয় ইভিএম-এর মাধ্যমে, আর গ্রাম কমিটির ভোট নেওয়া হয় পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে।
সব মিলিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে উপজাতি স্বশাসিত পরিষদ এলাকায় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নতুন করে গতি পাবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।


Leave feedback about this