2026-01-05
Ramnagar, Agartala,Tripura
পর্যটন রাজ্য

স্বদেশ দর্শন ২.০-এ ত্রিপুরার পর্যটনে নতুন দিগন্ত, জিরানিয়ায় একাধিক প্রকল্পের শিলান্যাস মুখ্যমন্ত্রীর

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- পর্যটন মানচিত্রে আরও এক ধাপ এগোল ত্রিপুরা। স্বদেশ দর্শন ২.০ প্রকল্পের আওতায় জিরানিয়ার শচীন্দ্রনগরে একাধিক উচ্চাকাঙ্ক্ষী পর্যটন প্রকল্পের শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. মানিক সাহা ও পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। এই উদ্যোগের মাধ্যমে রাজ্যের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বিনোদনকে এক সুতোয় গেঁথে পর্যটন শিল্পকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়েছে রাজ্য সরকার।

প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ‘ত্রিপুরা ট্র্যাডিশনাল ভিলেজ অ্যান্ড মিউজিক্যাল হেরিটেজ এক্সপেরিয়েন্স’—যেখানে রাজ্যের লোকসংস্কৃতি, জীবনধারা ও সঙ্গীত ঐতিহ্য পর্যটকদের সামনে জীবন্তভাবে তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি কলকাতার নিক্কো পার্কের আদলে গড়ে তোলা হবে একটি আধুনিক অ্যামিউজমেন্ট ও ইকো-ট্যুরিজম পার্ক, যা শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সের পর্যটকদের আকর্ষণ করবে।

এই প্রকল্পগুলির জন্য কেন্দ্রীয় পর্যটন দপ্তর চলতি বছরের মার্চ মাসে মোট ৪৮.৯৪ কোটি টাকা মঞ্জুর করেছে। পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী জানান, আগামী দুই বছরের মধ্যেই কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর কথায়, প্রকল্পগুলি চালু হলে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় যুবকদের জন্য বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

শিলান্যাস অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা বলেন, গত কয়েক বছরে ত্রিপুরার পর্যটন ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব অগ্রগতি হয়েছে। রাজ্যের লক্ষ্য শুধু পর্যটক আকর্ষণ নয়, বরং পর্যটনকে একটি শক্তিশালী শিল্পে পরিণত করে অর্থনৈতিক বিকাশ এবং কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা। তিনি জানান, বর্তমানে ত্রিপুরায় দেশি পর্যটকের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকের আগমনও বেড়েছে এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের মধ্যে জিএসডিপি বৃদ্ধি ও মাথাপিছু আয়ের নিরিখে ত্রিপুরা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, নীতি আয়োগ ত্রিপুরাকে একটি ফ্রন্ট-রানার রাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং রাজ্য সাতটি জাতীয় স্তরের পঞ্চায়েত পুরস্কার অর্জন করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ডাবল ইঞ্জিন সরকারের উন্নয়নের চিত্র প্রত্যক্ষ করতে দেশবাসীকে ত্রিপুরা সফরের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

ডা. সাহা জানান, প্রশাসনিক সংস্কারের ক্ষেত্রে ত্রিপুরা দেশের প্রথম ডিরেগুলেশন অর্জনকারী রাজ্য, যার মডেল ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্য সচিবদের সামনে উপস্থাপিত হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান বিজেপি সরকার প্রমাণ করেছে যে পর্যটন বাস্তব অর্থে একটি সম্ভাবনাময় শিল্প, যেখানে আগের বাম সরকার কেবল বক্তব্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

মুখ্যমন্ত্রী ইউনিটি প্রোমো ফেস্ট ২০২৫-এর সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন। রাজ্যের ছয়টি স্থানে আয়োজিত এই উৎসব ত্রিপুরার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে জাতীয় স্তরে তুলে ধরার পাশাপাশি পর্যটন কেন্দ্রগুলির প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে জানান তিনি।

এছাড়াও তিনি ঘোষণা করেন, ক্ষুদ্র শিল্পের বিকাশে ৫৭.১৪ কোটি টাকার সিডবি ক্লাস্টার ডেভেলপমেন্ট ফান্ড চালু করা হবে এবং পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে শীঘ্রই ট্যুরিস্ট পুলিশ চালু করা হবে।

ত্রিপুরার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ৫১ শক্তিপীঠের অন্যতম ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দির পুনর্নির্মাণের পর প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্ত ও পর্যটকের সমাগম হচ্ছে।

শেষে মুখ্যমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, পরিকাঠামো, পর্যটন, কৃষি, মৎস্য, যোগাযোগসহ সর্বক্ষেত্রে উন্নয়নের ধারায় ত্রিপুরা এগিয়ে চলেছে এবং ‘নিউ ইন্ডিয়া’র অংশ হিসেবে ‘নিউ ত্রিপুরা’ গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথেই রাজ্য অগ্রসর হচ্ছে।

    Leave feedback about this

    • Quality
    • Price
    • Service