2026-01-30
Ramnagar, Agartala,Tripura
রাজ্য শিক্ষা

শিক্ষাকেই উন্নয়নের মূল ভিত্তি করে ত্রিপুরাকে এডুকেশন হাব হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে: মুখ্যমন্ত্রী

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- শিক্ষাকে রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের প্রধান স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করে ত্রিপুরাকে একটি শক্তিশালী এডুকেশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে বর্তমান রাজ্য সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করে চলেছে—এমনটাই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা) মানিক সাহা।

আজ আগরতলার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে নেতাজি সুভাষ বিদ্যানিকেতনের প্লাটিনাম জুবিলির সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী একথা বলেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শিক্ষাকে উন্নয়নের প্রধান ভিত্তি হিসেবে ধরে রাজ্য সরকার সুসংহত ও লক্ষ্যভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এরই ফলশ্রুতিতে ত্রিপুরা আজ দেশের তৃতীয় পূর্ণ সাক্ষর রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। বর্তমানে রাজ্যের সাক্ষরতার হার ৯৫.৬ শতাংশ, যা এক ঐতিহাসিক সাফল্য।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা ছাত্রছাত্রীদের কেবল পাঠ্যবইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখছে না, বরং তাদের মানবিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা, আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞান, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে গড়ে তুলছে।

নেতাজি সুভাষ বিদ্যানিকেতনের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই বিদ্যালয়ের একটি স্বতন্ত্র গৌরব ও ঐতিহ্য রয়েছে। এটি শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং চরিত্র গঠন, শৃঙ্খলাবোধ ও দেশপ্রেমের বিকাশে এক অনন্য পীঠস্থান। রাজ্যের অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ এই বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরেই সমাজ ও জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এখানকার ছাত্রছাত্রীরা আজ দেশ-বিদেশে সাফল্যের সঙ্গে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।

আজকের দিনটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় যাঁদের অবদান রয়েছে, তাঁদের স্মরণ করারও দিন বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিক্ষার কোনও শেষ নেই—এটি একটি জীবনব্যাপী যাত্রা। শিক্ষা সেই সেতু, যা অজ্ঞতাকে জ্ঞানের সঙ্গে এবং অন্ধকারকে আলোর সঙ্গে যুক্ত করে।

স্বামী বিবেকানন্দের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, “মানুষের অন্তর্নিহিত পূর্ণতার বিকাশই হচ্ছে শিক্ষা।” পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্য উল্লেখ করে বলেন, শিক্ষা কেবল পাঠ্যবইভিত্তিক জ্ঞান নয়, বরং মূল্যবোধ, বিকাশ ও জাতি গঠনের অন্যতম হাতিয়ার।

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নের চিত্রও তুলে ধরেন। তিনি জানান, রাজ্যের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে পার্সোনালাইজড অ্যাডাপটিভ লার্নিং, বিদ্যাজ্যোতি স্কুলে রূপান্তর, আইসিটি সুবিধা, স্মার্ট ক্লাসরুম, টিঙ্কারিং ল্যাব, সুপার ৩০ প্রকল্প, কন্যা শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বাইসাইকেল, চিফ মিনিস্টার্স অ্যানুয়াল স্টেট অ্যাওয়ার্ড, জাতীয় শিক্ষানীতির প্রবর্তন, টি-স্কোয়াফ পদ্ধতি, বিদ্যাসেতু মডিউল, মিশন মুকুল, সহর্ষ কার্যক্রম, পি এম জনমন প্রকল্প, একলব্য মডেল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল, এমনকি ড্রোন শিক্ষার মতো আধুনিক উদ্যোগ রাজ্যে সফলভাবে রূপায়িত হচ্ছে।

তিনি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও আইন-শৃঙ্খলা—সব ক্ষেত্রেই ত্রিপুরা আজ এগিয়ে চলেছে। শিক্ষা পরিকাঠামোর উন্নয়ন, ডিজিটাল শিক্ষা ও ছাত্রকল্যাণমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে গুণগত শিক্ষার প্রসারে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। আজকের দিনটিকে বিদ্যালয়ের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বিদ্যালয়ের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য বলেন, নেতাজি সুভাষ বিদ্যানিকেতনের এক সমৃদ্ধ ঐতিহ্য রয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আগামীদিনে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা জাতীয় শিক্ষানীতিকে পাথেয় করে আরও এগিয়ে যাবে।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয় পরিচালন কমিটির সম্পাদক ও প্রাক্তন বিধায়ক ডা. দিলীপ দাস। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষিকা বর্ণালী মজুমদার। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক তপন চক্রবর্তী সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

    Leave feedback about this

    • Quality
    • Price
    • Service