2025-03-31
Ramnagar, Agartala,Tripura
রাজনৈতিক রাজ্য

মতিনগর সীমান্তের মানুষের সমস্যা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরীর

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি:- পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার অধীন ডুকলী আর. ডি. অন্তর্গত পান্ডবপুর ও ফুলতলী গ্রাম পঞ্চায়েতের ৮৫ টি পরিবারের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডাক্তার মানিক সাহার নিকট চিঠি দিলেন বিরোধী দলনেতা তথা সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী। চিঠিতে তিনি লিখেছেন উল্লেখিত এলাকায় পাঁচ শতাধিক ধর্মীয় সংখ্যালঘু পরিবার রয়েছে, কিন্তু ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের ফলে এই পরিবার সমূহ বহুমুখী সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। গতকাল ২৯শে মার্চ, ২০২৫ ইং উক্ত এলাকা সশরীরে পরিদর্শন করেন এবং নাগরিকদের সাথে সবিস্তারে কথা বলে তাঁদের সমস্যাদি জেনেছেন যা মুখ্যমন্ত্রীর সমীপে তুলে ধরেছেন বলে।

তিনি জানিয়েছেন এই পরিবারগুলি গত ৫/৬ পুরুষ ধরে উক্ত এলাকায় বসবাস করে আসছে। তাঁদের সকলেরই বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের ফলে তাঁদের এই দশা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সিংহভাগই শ্রমজীবী অংশের মানুষ, দৈনিক রোজগার করে কোনপ্রকারে সংসার চালান। নাগরিক পরিষেবা বলতে এই জনবসতিতে বিদ্যুৎ ছাড়া আর কিছু নেই। উক্ত ৮৫টি পরিবারের বাড়িঘর ছাড়াও ঐ ভূখন্ডে এই পরিবার সমূহ এবং এই এলাকার আরো কিছু পরিবারের ফসলের জমি, ১টি মসজিদ এবং ১টি কবরস্থান রয়েছে। কিন্তু, সীমান্ত গেইট পারাপার করার জন্য সীমান্ত রক্ষী বাহিনী নির্দিষ্ট সময় ও নানা নিয়ম বেঁধে দেবার কারণে তাঁদের বহুবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

অবশেষে গতকাল পরিদর্শনকালে সমস্যাপীড়িত জনগনের সাথে আলাপচারিতায় সমস্যা নিরসনের যে প্রস্তাব উঠে এসেছে-সেগুলি নিম্নরূপঃ

 

(১) সরকার নিকটবর্তী কোন জায়গায় ভূমি বন্দোবস্ত করে বাসস্থান ইত্যাদি নির্মাণ করে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করলে এই ৮৫টি পরিবারই সেই জায়গা ছেড়ে আসত প্রস্তুত।

 

(২) অন্যত্র কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ হয়েছে আন্তর্জাতিক সীমারেখা থেকে ১৫০ গজ ভারতীয় ভূখন্ডের ভেতরে। অজ্ঞাত কারণে এই স্থানে বেড়া নির্মাণ হয়েছে ৫০০ গজের ও অধিক ভেতরে। ১৫০ গজের উপরে যদি কাঁটাতার পুননির্মাণ করা যায় তাহ’লে অর্ধেকের বেশী পরিবারকে স্থানান্তরের প্রয়োজন হবেনা। এতে এই অর্ধেক পরিবারই শুধু অক্ষত থাকবেনা- মসজিদ এবং কবরস্থানও কাঁটাতারের বাইরে পরবে।

 

(৩) পরিবার সমূহের দাবী, যতদিননা উপরোক্ত (১ এবং ২ নং প্রস্তাবে বর্ণিত) ব্যবস্থাদি না হবে ততদিন তাঁদের সেই এলাকায় বসবাস করার সুযোগ দিতে হবে। বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ করা যাবেনা এবং সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর হয়রানী বন্ধ করতে হবে।

 

(৪) যেহেতু, কবরস্থানটি এই বিস্তীর্ণ এলাকার সকলের তাই সকলের সুবিধার্থে তাই সেই এলাকার কাছাকাছিতে একটি নতুন গেইট নির্মাণ করতে হবে।

সর্বশেষে নিজ লিখিত চিঠির মাধ্যমে উপরোক্ত অতি মানবিক ও স্পর্শকাতর বিষয় সমূহের গুরুত্ব অনুধাবন করে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে প্রস্তাব সমূহ আন্তরিকতার সাথে বিবেচনার জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে আবেদন জানান বিরোধ দলনেতা জীতেন্দ্র চৌধুরী।

    Leave feedback about this

    • Quality
    • Price
    • Service