জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- বিজেপির বিরুদ্ধে বর্বরোচিত হামলার অভিযোগ সিপিএমের। দলবল নিয়ে সিপিআইএমের সভায় হামলা চালালো রামনগরের মণ্ডল সভাপতি অমিতাভভট্টাচার্য। ঘটনা দক্ষিণ জয়নগর চৌমুহনী এলাকায়। শনিবার সেখানে এলাকার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সিপিএমের লোক্যাল কমিটি সভা করে। আর এই সভাতেই আক্রমণ চালায় বিজেপির দুষ্কৃতিরা।
এমনটাই অভিযোগ প্রাক্তন মন্ত্রী তথা সিআইটিইউর নেতা মানিক দের। রামনগরের বিজেপি মণ্ডল সভাপতির নেতৃত্বে একদল দুষ্কৃতি সিপিএমের সভাস্থলে গিয়ে হাজির হয়। সভায় শুভাশিষ গাঙ্গুলি বক্তব্য রাখার পর সিপিএম পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা সম্পাদক রতন দাস বক্তব্য রাখতে মঞ্চে উঠেন।
তিনি বক্তব্য শুরু করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিজেপির দুষ্কৃতিরা সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালায় রতন দাসের উপর। শুধু বিজেপি দুষ্কৃতিই নয় খোদ বিজেপি মণ্ডল সভাপতি অমিতাভভট্টাচার্য নিজেও আক্রমণ করেন রতন দাসের উপর। সেই সঙ্গে শুভাশিষ গাঙ্গুলি, স্থানীয় সিপিএম নেতা সুভাষ দাস তাদেরকেও বেধরক মারধর করা হয়।
আক্রমণ করা হয় এসএফআই রাজ্য সম্পাদক সন্দীপন দেব, সিপিএম যুবনেতা সৃজন দে সহ যাকে কাছে পেয়েছেন তাদের উপরই বেধরক মারধর করা হয়। ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয় চেয়ার টেবিল, ভাঙ্গচুর করা হয় সভার মঞ্চ। ভাঙ্গা চেয়ার এবং টেবিল দুষ্কৃতিকারীরা নদীতে ফেলে দেন। এদিন মানিক দে আরো অভিযোগ করেন। সেখানে সভার জন্য পুলিশের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। পুলিশও গিয়েছিলেন।
তবে যখন বিজেপি দুষ্কৃতিরা হামলা চালায় তখন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালক করে থাকে পুলিশ। বিজেপির নেতাদের পাশাপাশি পুলিশকেও এই ঘটনার জন্য দায়ি করেন। আহত রতন দাস, শুভাশিষ গাঙ্গুলি এবং সুভাষ দাস বর্তমানে জিবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রথমে তাদের আইজিএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখান থেকে জিবিতে রেফার করা হয়।
বিজেপির এই ধরনের বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে সিপিএমের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। মিছিল করে সিপিএম নেতা, কর্মী সমর্থকরা আগরতলা পশ্চিম থানার সামনে এসে জড়ো হন। থানার ভিতর ঢুকে বিজেপি এবং পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন সিপিএম নেতা কর্মীরা। দিনে দুপুরে প্রকাশ্য সিপিএমের সভায় এই ধরনের হামলার ঘটনা নজিরবিহীন বলা যায়।
রামনগরের বিধায়ক তথা আগরতলা পুর নিগমের মেয়র এই ঘটনার নেপথ্যে জড়িত রয়েছেন বলে দাবি সিপিএমের। তিনি নাকি এলাকায় সিপিএমের বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করে রেখেছেন। কোথাও যেন কোন ধরনের কর্মসূচি সিপিএম না করতে পারে তার জন্য দলের নেতা কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন। বিজেপি বিধায়ক দীপক মজুমদারের এই ধরনের কর্মকাণ্ড নিয়ে দলীয় স্তরেও নানা রকম সমালোচনা শুরু হয়েছে। আদতে তিনি কি করতে চাইছেন বা কি বুঝাতে চাইছেন তা বিজেপির নেতাদেরই বোধগম্য নয়।
Leave feedback about this