জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :-লোকসভায় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন আজ ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করেন। এটি তাঁর টানা নবম বাজেট। বাজেটকে তিনি ‘যুবশক্তি নির্ভর’ (Yuva Shakti-driven Budget) হিসেবে অভিহিত করেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, দারিদ্র্য হ্রাস এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে দেশে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
তিনি জানান, চলতি বছরের বাজেট তিনটি ‘কর্তব্য’-এর অনুপ্রেরণায় গঠিত—
১. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা
২. মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা
৩. প্রতিটি পরিবার, সমাজ, অঞ্চল ও ক্ষেত্রকে সুযোগ-সুবিধা ও সম্পদের আওতায় আনা
এই বাজেট ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
* বাজেট ২০২৬-২৭-এর প্রধান দিকসমূহ (Budget Highlights)
▶ শিল্প, MSME ও উৎপাদন খাত
১০,০০০ কোটি টাকার SME গ্রোথ ফান্ড ঘোষণা, ভবিষ্যতের ‘চ্যাম্পিয়ন SME’ তৈরির লক্ষ্য।
SME ঋণদাতাদের জন্য Infrastructure Risk Guarantee Fund গঠন।
ইলেকট্রনিক্স কম্পোনেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং স্কিমের বরাদ্দ ৪০,০০০ কোটি টাকা করা হয়েছে।
খনি, প্রক্রিয়াকরণ ও গবেষণায় গতি আনতে ৩টি কেমিক্যাল পার্ক স্থাপন।
কনটেইনার ম্যানুফ্যাকচারিং স্কিমে ১০,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ (৫ বছরে)।
▶ বস্ত্র ও গ্রামীণ শিল্প
খাদি, হ্যান্ডলুম ও হস্তশিল্পের উন্নয়নে ‘মহাত্মা গান্ধী গ্রাম স্বরাজ উদ্যোগ’।
টেক্সটাইল সেক্টরে ন্যাশনাল ফাইবার স্কিম ও ন্যাশনাল হ্যান্ডলুম-হ্যান্ডিক্রাফট প্রোগ্রাম মিলিয়ে মেগা টেক্সটাইল পার্ক স্থাপনের প্রস্তাব।
▶ পরিকাঠামো ও পরিবহণ
পাবলিক ক্যাপেক্স বাড়িয়ে ১২.২ লক্ষ কোটি টাকা।
নতুন ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডোর: দানকুনি (পূর্ব) থেকে সুরাট।
আগামী ৫ বছরে ২০টি নতুন জাতীয় জলপথ চালু; শুরু হবে ওডিশার NW-5 থেকে।
বারাণসী ও পাটনায় শিপ রিপেয়ার ইকোসিস্টেম গঠন।
উপকূলীয় পণ্য পরিবহণে উৎসাহ দিতে Coastal Cargo Promotion Scheme।
৭টি হাই-স্পিড রেল করিডোর উন্নয়নের প্রস্তাব (মুম্বই-পুনে, পুনে-হায়দরাবাদ, হায়দরাবাদ-বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ-চেন্নাই, চেন্নাই-বেঙ্গালুরু, দিল্লি-বারাণসী, বারাণসী-শিলিগুড়ি)।
▶ স্বাস্থ্য ও ফার্মা
বায়োফার্মা শক্তি প্রকল্পে ২০,০০০ কোটি টাকা (৫ বছরে)।
৩টি নতুন NIPER ও ৭টি বিদ্যমান প্রতিষ্ঠান আপগ্রেড।
ক্যান্সারের ১৭টি ওষুধে কাস্টমস ডিউটি ছাড়।
৫টি আঞ্চলিক মেডিক্যাল হাব গঠন করে মেডিক্যাল ট্যুরিজমে জোর।
৩টি নতুন অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব আয়ুর্বেদ।
নিমহান্স-২ স্থাপন ও রাঁচি-তেজপুরে মানসিক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান উন্নীতকরণ।
জেলা হাসপাতালে ৫০% জরুরি পরিষেবা ক্ষমতা বৃদ্ধি।
▶ শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও ক্রীড়া
পরিষেবা খাতকে এগিয়ে নিতে Education to Employment & Enterprise কমিটি গঠন।
১৫ হাজার স্কুল ও ৫০০ কলেজে AVGC কনটেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব স্থাপন।
শিল্প করিডরের কাছে ৫টি ইউনিভার্সিটি টাউনশিপ।
ঐতিহ্য সংরক্ষণে ন্যাশনাল ডেস্টিনেশন ডিজিটাল নলেজ গ্রিড।
ক্রীড়া ক্ষেত্রে রূপান্তরের লক্ষ্যে ‘খেলো ইন্ডিয়া মিশন’।
উত্তর-পূর্ব ভারতে বৌদ্ধ সার্কিট উন্নয়ন প্রকল্প (অরুণাচল, সিকিম, আসাম, মণিপুর, মিজোরাম ও ত্রিপুরা)।
▶ কর ও আর্থিক সিদ্ধান্ত
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে রাজস্ব ঘাটতি ৪.৩% নির্ধারণ।
আয়করে বড় পরিবর্তন নেই; রিভাইজড রিটার্ন জমার সময় বাড়ানো হয়েছে ৩১ মার্চ পর্যন্ত।
শিক্ষা ও চিকিৎসার জন্য LRS-এর আওতায় TCS হার ৫% থেকে কমিয়ে ২%।
ফিউচার্সে STT ০.০২% থেকে বাড়িয়ে ০.০৫%।
মোটর দুর্ঘটনা ক্ষতিপূরণের সুদের উপর আয়কর ছাড়।
ক্লাউড পরিষেবা প্রদানকারী বিদেশি সংস্থাকে ২০৪৭ পর্যন্ত কর ছুটি।
▶ রপ্তানি ও বাণিজ্য
সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের কাঁচামালে ডিউটি ফ্রি আমদানি সীমা বৃদ্ধি।
জুতো শিল্পে ডিউটি ফ্রি ইনপুট সুবিধা সম্প্রসারণ।
সৌর কাঁচ তৈরিতে ব্যবহৃত সোডিয়াম অ্যান্টিমোনেটে শুল্ক ছাড়।
মাছ ধরাকে শুল্কমুক্ত করা এবং বিদেশি বন্দরে নামালে রপ্তানি হিসেবে গণ্য।
এই বাজেটের মাধ্যমে সরকার যুবশক্তি, শিল্পোন্নয়ন, পরিকাঠামো, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের উপর বিশেষ জোর দিয়েছে, যা ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গঠনের পথে দেশকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে মত বিশেষজ্ঞ মহলের।


Leave feedback about this