জনতার কলম আগরতলা প্রতিনিধি :- ক্রীড়াক্ষেত্রে সফলতার শিখরে পৌঁছানোর মূল শর্ত অনুশীলন। প্রতিদিন কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব। সেক্ষেত্রে নিজের উপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখতে হবে এবং অন্যদের সাথে তুলনা করার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আজ বাধারঘাটস্থিত দশরথ দেব স্পোর্টস কমপ্লেক্সে জাতীয় ক্রীড়া দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা। আজকের এই অনুষ্ঠানে ২০২৪-২৫ বর্ষে জাতীয় স্তরে যে সকল খেলোয়াড়রা পদক জিতেছেন এমন ৩৯ জনকে আর্থিক পুরস্কার দিয়ে সংবর্ধিত করেন মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্যান্য অতিথিগণ।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, হকির যাদুকর মেজর ধ্যানচাঁদ তাঁর ক্রীড়া প্রতিভা দিয়ে সমগ্র বিশ্বে ভারতের নাম উজ্জ্বল করেছিলেন। তাই তাঁর জন্মদিবসকে জাতীয় ক্রীড়া দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয়ে থাকে। উদ্দেশ্য হলো ধ্যানচাঁদের আদর্শে যাতে নবীন প্রজন্মকে ক্রীড়াক্ষেত্রে কিছু করে দেখানোর মানসিকতায় গড়ে তোলা যায়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান রাজ্য সরকারের সময়েই রাজ্যের ক্রীড়া পরিকাঠামোর সর্বাধিক বিকাশ হয়েছে। গ্রাম থেকে শহর সর্বত্রই আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্য সরকার সচেষ্ট। ক্রীড়া পরিকাঠামোর বিকাশের সদর্থক ফল বর্তমানে রাজ্যের ক্রীড়াবিদদের ক্রীড়া প্রদর্শনের উপর পড়েছে। বর্তমান সময়ে রাজ্যের খেলোয়াড়রা জাতীয় স্তরে ভালো ফলাফল করছেন। কারণ রাজ্যে ক্রীড়া প্রতিভার অভাব কোনোদিনই ছিলো না। কিন্তু সঠিক পরিকাঠামোর অভাবে তার পূর্ণ স্ফূরণ কখনোই সম্ভব হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী ক্রীড়া উন্নয়ন প্রকল্প, মুখ্যমন্ত্রী ক্রীড়া অন্বেষণ প্রকল্পের মাধ্যমে বর্তমানে বিভিন্ন ক্রীড়াক্ষেত্রে সফলতা অর্জনকারী খেলোয়াড়দের পুরস্কৃত করা হচ্ছে। এরফলে তারাও উৎসাহিত হচ্ছেন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, পড়াশুনার পাশাপাশি খেলাধুলাতে প্রত্যেকেই জড়িত হওয়া প্রয়োজন। কারণ খেলাধুলাই মানুষের শরীর ও মনকে সুস্থ ও সবল বানাতে সাহায্য করে। একজন উৎকৃষ্ট খেলোয়াড় গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কোচদের ভূমিকাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কোচদের আধুনিক ও নতুন নতুন পদ্ধতি অনুসরণ করে কোচিং প্রদান করার জন্যও এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত কোচদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কোচদের শুধু খেলার কোচিং করালেই হবে না, খেলোয়াড়দের স্বপ্ন দেখানোও শেখাতে হবে। তিনি যে কোনও খেলার অনুশীলন শুরুর পূর্বে কিছুক্ষণ যোগা করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, দীপা কর্মকারের মতো খেলোয়াড়রা রাজ্যের ক্রীড়া জগতকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত করিয়েছেন। বর্তমান খেলোয়াড়দেরও তার দেখানো পথেই এগিয়ে যাওয়া উচিত। মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন আগামীদিনে আরও অনেক ক্রীড়া প্রতিভা উঠে আসবে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে দেশের নাম উজ্জ্বল করবে।
যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ক্রীড়ামন্ত্রী টিংকু রায় বলেন, ত্রিপুরা রাজ্য ছোট হলেও এখানে ক্রীড়া প্রতিভার কোনও অভাব নেই। বর্তমান সরকারের আমলে রাজ্যের ক্রীড়া পরিকাঠামোর বিকাশে কিকি পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে তা নিয়েও তিনি সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য বলেন, রাজ্যে খেলাধুলার মান ও পরিকাঠামো উন্নয়নে বর্তমান সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেখানো দিশাতেই রাজ্যের ক্রীড়া বিকাশে একাধিক পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে। তিনি বলেন, যে সকল ক্রীড়া পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে তার পূর্ণ ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণে সংশ্লিষ্টদেরই আরও কার্যকরী মনোভাবে গ্রহণ করতে হবে।
আজকের এই অনুষ্ঠানে মাউন্ট এভারেস্ট বিজয়ী পর্বতারোহী অরিত্র রায়, আগরতলা থেকে লাদাখ পর্যন্ত সাইকেল চালিয়ে যাওয়া অজয় কুমার সাহা সহ ২ জন পি.আই-কেও আজকের অনুষ্ঠানের সংবর্ধিত করা হয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে ছিলেন বিধায়ক মিনারাণী সরকার, পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল, দপ্তরের সচিব ড. পি. কে. চক্রবর্তী ও অধিকর্তা এল, ডার্লং এবং ত্রিপুরা ক্রীড়া পর্ষদের সচিব সুকান্ত ঘোষ ও পদ্মশ্রী ড. দীপা কর্মকার।
Leave feedback about this