জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- গত এক দশকে ভারতের রূপান্তর এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে ভারতের আকর্ষণ বৃদ্ধি পাওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শুক্রবার বলেন, “ভারতে মূলধন শুধু বাড়ে না, তা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।”
দুই দিনের সরকারি সফরে জাপান পৌঁছে টোকিওতে আয়োজিত ইন্ডিয়া-জাপান ইকোনমিক ফোরামে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ভারতের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জাপানের সঙ্গে গভীরতর কৌশলগত অংশীদারিত্বের দিকটি বিশেষভাবে তুলে ধরেন।
মোদি বলেন, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (JETRO)-এর এক সমীক্ষা অনুযায়ী, ভারতে কার্যরত ৮০ শতাংশ জাপানি কোম্পানি ব্যবসা সম্প্রসারণে আগ্রহী এবং ৭৫ শতাংশ ইতিমধ্যেই লাভ করছে। ভারতের ব্যাংকিং খাত শক্তিশালী, মুদ্রাস্ফীতি ও সুদের হার নিয়ন্ত্রিত, আর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৭০০ বিলিয়ন ডলার—সব মিলিয়ে ভারত এক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে উঠে আসছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, তাঁর সরকারের “রিফর্ম, পারফর্ম, ট্রান্সফর্ম” নীতির ফলেই এই রূপান্তর সম্ভব হয়েছে। জিএসটি, সিঙ্গল-উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স এবং ব্যবসা সহজীকরণের নানা সংস্কার উদ্যোগকে তিনি এ ক্ষেত্রে উল্লেখ করেন।
ভারত-জাপান সহযোগিতার পাঁচ দফা রোডম্যাপও উপস্থাপন করেন মোদি:
1. উৎপাদন ও নতুন খাত – গাড়ি, ইলেকট্রনিক্স থেকে শুরু করে ব্যাটারি, রোবটিক্স, সেমিকন্ডাক্টর, জাহাজ নির্মাণ ও পারমাণবিক শক্তি।
2. প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন – কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, বায়োটেকনোলজি, মহাকাশ গবেষণা ইত্যাদিতে যৌথ নেতৃত্ব।
3. সবুজ শক্তি রূপান্তর – সৌরশক্তি, সবুজ হাইড্রোজেন, পরিষ্কার শক্তি ও পারমাণবিক বিদ্যুতে অংশীদারিত্ব।
4. নেক্সট-জেন অবকাঠামো – গত এক দশকে ১,০০০ কিমি মেট্রোরেল নির্মাণসহ পরিবহন খাতে সাফল্য এবং মুম্বই-আহমেদাবাদ বুলেট ট্রেন প্রকল্পে জাপানের অবদান।
5. দক্ষতা উন্নয়ন ও মানুষে-মানুষে সম্পর্ক – ভারতীয় যুবকদের ভাষা প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বিকাশের মাধ্যমে জাপানের কর্মক্ষেত্রে যুক্ত করা।
ভারত-জাপান সম্পর্ককে “বিশ্বাস ও পারস্পরিক লাভের সম্পর্ক” বলে অভিহিত করে মোদি জানান, এ পর্যন্ত জাপানি সংস্থাগুলি ভারতে ৪০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে, যার মধ্যে গত দুই বছরেই ১৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ হয়েছে।
মোদি জাপানি শিল্পপতিদের উদ্দেশে আহ্বান জানান, “আসুন, মেক ইন ইন্ডিয়া এবং মেক ফর দ্য ওয়ার্ল্ড। ভারত ও জাপান মিলে আসিয়ান শতাব্দীকে স্থিতিশীলতা, প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির যুগে পরিণত করবে।”
প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার আমন্ত্রণে শুক্রবার সকালে টোকিও পৌঁছান মোদি। সফরে তিনি ১৫তম ভারত-জাপান বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন এবং দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয়ে গভীর আলোচনা করবেন। জাপান সফরের পর তিনি ৩১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর তিয়ানজিনে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনে অংশ নিতে চীন সফর করবেন।
Leave feedback about this