জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- ত্রিপুরা বিধানসভার লবিতে আজ প্রয়াত অধ্যক্ষ বিশ্ববন্ধু সেনের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। ত্রিপুরা বিধানসভার উদ্যোগে আয়োজিত এই শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানে বিধানসভার বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধি, আধিকারিক ও কর্মচারীরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রয়াত অধ্যক্ষ বিশ্ববন্ধু সেনের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান বিধানসভার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রামপ্রসাদ পাল, সংসদীয় তথা কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী রতনলাল নাথ, বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী, বিধানসভার সরকারি মুখ্য সচেতক কল্যাণী সাহা রায়, বিধানসভার সচিব এ কে নাথ, অতিরিক্ত সচিব বিপ্লব দাস-সহ বিধানসভার বিভিন্ন স্তরের আধিকারিক ও কর্মচারীরা।
শ্রদ্ধাঞ্জলি সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রামপ্রসাদ পাল বলেন, প্রয়াত বিশ্ববন্ধু সেন চারবার বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং ত্রিপুরা বিধানসভার ইতিহাসে এই প্রথম কোনও অধ্যক্ষ দায়িত্বকালীন অবস্থায় প্রয়াত হন। তিনি ছিলেন একজন গুণী মানুষ ও দক্ষ রাজনীতিবিদ, যিনি বিরোধী দলের কাছ থেকেও সম্মান ও প্রশংসা অর্জন করেছিলেন। তিনি বলেন, “কিছু মানুষ মৃত্যুর পরও তাঁদের কর্ম ও স্মৃতির মাধ্যমে বেঁচে থাকেন।” প্রয়াত অধ্যক্ষের আত্মার সদগতি কামনা করে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
সংসদীয় মন্ত্রী রতনলাল নাথ বলেন, বিশ্ববন্ধু সেন শুধুমাত্র একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি ছিলেন কবি, সাহিত্যিক, গায়ক ও একনিষ্ঠ রবীন্দ্রপ্রেমী। সংসদীয় বিষয়ে তাঁর গভীর জ্ঞান ছিল এবং তিনি জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে তিনি কখনও পিছপা হননি। রাজনীতির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো রাজনীতি এবং একজন প্রকৃত রাজনীতিবিদকে সংবেদনশীল হতে হয়। মানুষের দুঃখ-কষ্ট উপলব্ধি করার ক্ষমতাই একজন রাজনীতিবিদের প্রকৃত পরিচয়। তিনি আরও বলেন, রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও অধ্যক্ষদের অবদানও আমাদের স্মরণ করা উচিত। বিশ্ববন্ধু সেন মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন এবং মানুষের হৃদয়ে তিনি চিরদিন বেঁচে থাকবেন।
বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, বিশ্ববন্ধু সেন ছিলেন উদার মনের নেতা, যিনি সব বিধায়ককে সমান চোখে দেখতেন। দক্ষতার সঙ্গে তিনি অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেছেন। অর্থনীতি, সমাজনীতি ও সংসদীয় বিষয়ে তাঁর প্রখর জ্ঞান ছিল। সংগীতপ্রেমী এই মানুষটি সকলের কাছে অনুকরণীয় ছিলেন। তিনি বলেন, প্রয়াত অধ্যক্ষের অসমাপ্ত কাজ সম্পূর্ণ করাই হবে তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।
সরকারি মুখ্য সচেতক কল্যাণী সাহা রায় বলেন, বিশ্ববন্ধু সেন সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে বিধানসভার দায়িত্ব পালন করেছেন। ভাল মানুষরা তাঁদের কর্মের মধ্য দিয়েই মানুষের স্মৃতিতে চিরকাল বেঁচে থাকেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিধানসভার সচিব এ কে নাথ। শেষে প্রয়াত অধ্যক্ষ বিশ্ববন্ধু সেনের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।


Leave feedback about this