2026-01-03
Ramnagar, Agartala,Tripura
রাজ্য

পাঁচ লক্ষ সৌরবিদ্যুৎ গ্রাহক হলেই বিদ্যুতে আত্মনির্ভর ত্রিপুরা: বিদ্যুৎমন্ত্রী

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- নবায়নযোগ্য শক্তিকে সামনে রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদনে আত্মনির্ভরতার পথে এগোচ্ছে ত্রিপুরা। রাজ্যের প্রায় পাঁচ লক্ষ বিদ্যুৎ গ্রাহক যদি রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার আওতায় আসেন, তাহলে ত্রিপুরা নিজস্বভাবে বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে সক্ষম হয়ে উঠতে পারে—এমনই মন্তব্য করলেন বিদ্যুৎমন্ত্রী রতন লাল নাথ।

শনিবার রাজধানীর বনমালিপুরে উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথম এনার্জি কনজারভেশন বিল্ডিং কোড (ECBC)–সম্মত ভবনের ভূমিপূজন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে রাজ্যে বিদ্যুৎ গ্রাহকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০.৫৭ লক্ষে। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার সময় এই সংখ্যা ছিল ৭.২১ লক্ষ। তাঁর মতে, পাঁচ লক্ষ পরিবার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় যুক্ত হলে প্রতিদিন প্রায় ১,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।

মন্ত্রী আরও জানান, এমনকি যদি মাত্র দুই লক্ষ গ্রাহক সৌরবিদ্যুৎ গ্রহণ করেন, তবুও প্রায় ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে, যা রাজ্যের বর্তমান সর্বোচ্চ চাহিদা ৩৭৮ মেগাওয়াটের থেকেও বেশি। ভবিষ্যতের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ২০৩১–৩২ সালের মধ্যে ত্রিপুরার বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে ৬৫০ মেগাওয়াটে পৌঁছতে পারে।

বর্তমানে রাজ্যের প্রায় ১৫ হাজার বাড়িতে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। পাশাপাশি সরকারি পরিকাঠামোতেও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যে প্রায় ২,০০০ সরকারি ভবন রয়েছে, যার মধ্যে ২০০ থেকে ৩০০টি ভবনে ইতিমধ্যেই সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু হয়েছে। বাকি ভবনগুলিতেও কাজ চলছে এবং শুধুমাত্র সরকারি ভবন থেকেই ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ গ্রাহকের সংখ্যা বৃদ্ধিকে উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে রতন লাল নাথ বলেন, বিদ্যুৎ ব্যবহার বাড়া মানেই মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হচ্ছে। গত সাত বছরে রাজ্যের মাথাপিছু আয় ১,০০,৪০০ টাকা থেকে বেড়ে ১,৯৮,০০০ টাকায় পৌঁছেছে। আগামী দিনে এই আয় ৩,৭০,০০০ টাকায় নিয়ে যাওয়াই সরকারের লক্ষ্য।

কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় রাজ্যে ৪.৯৪ লক্ষ বাড়ি অনুমোদিত হয়েছে এবং প্রায় ২৪ লক্ষ মানুষ বিনামূল্যে রেশন পাচ্ছেন। তাঁর কথায়, “এখন এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছি, যেখানে রাজ্যের কোনো পরিবার খাদ্যশস্যের অভাবে ভোগে না।”

অনুষ্ঠানে আলোচিত ECBC–সম্মত ভবনটি সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, সারা দেশে এমন মাত্র পাঁচটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। আধুনিক ও শক্তি-সাশ্রয়ী প্রকৌশল ব্যবস্থার মাধ্যমে এই ভবনে বিদ্যুৎ খরচ ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    Leave feedback about this

    • Quality
    • Price
    • Service