জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- নবম সংস্করণের জনপ্রিয় কর্মসূচি ‘পরীক্ষা পে চর্চা’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে আত্মবিশ্বাস ও মানসিক দৃঢ়তা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। একটি ভিডিও বার্তায় তিনি পরীক্ষার সময় মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কাটিয়ে ওঠার নানা দিক নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে মত বিনিময় করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর শেখার ধরন আলাদা। তাই অন্যের অনুকরণ না করে নিজের প্রস্তুতির ধরনে পূর্ণ আস্থা রাখা জরুরি। একই সঙ্গে শিক্ষক, অভিভাবক ও মেন্টরদের পরামর্শ মন দিয়ে শুনে নিজের মতো করে তা কাজে লাগানোর কথাও বলেন তিনি।
তিনি জানান, শুধু গাইড-বুক, ‘শিওর-শট’ প্রশ্ন বা প্রশ্নব্যাংকের ওপর নির্ভর করলে প্রকৃত শিক্ষা হয় না। ভালো শিক্ষকরা পুরো সিলেবাস বোঝাতে গুরুত্ব দেন এবং পাঠ্য বিষয়কে বাস্তব জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে শেখান। এতে পরীক্ষার পাশাপাশি সার্বিক বিকাশ ঘটে।
শিক্ষকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর শেখার গতি আলাদা। শিক্ষককে শিক্ষার্থীদের থেকে মাত্র এক ধাপ এগিয়ে থাকতে হবে—যাতে পড়াশোনা ভয় ধরানো না হয়ে সহজবোধ্য ও অনুপ্রেরণামূলক হয়। তিনি শিক্ষাদান প্রক্রিয়াকে কৃষিকাজের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, যেমন কৃষক জমি প্রস্তুত করে বীজ বপন করেন, তেমনি শিক্ষকদেরও ধৈর্য নিয়ে শিক্ষার্থীদের মন প্রস্তুত করতে হয়।
এক ছাত্রের প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু নম্বর নয়, দক্ষতার উন্নয়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। জীবনে ভারসাম্য বজায় রাখাই সাফল্যের চাবিকাঠি। তিনি জানান, দক্ষতা দুই ধরনের—জীবনদক্ষতা ও পেশাগত দক্ষতা—দুটিরই বিকাশ প্রয়োজন।
শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত ব্যায়াম, যোগাভ্যাস, পুষ্টিকর খাদ্য, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং মানসিক শক্তি বজায় রাখার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, জীবন শুধু পরীক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষা মানুষের জীবন গঠনের মাধ্যম, আর পরীক্ষা কেবল নিজেকে যাচাই করার একটি উপায়।
শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বপ্নহীন জীবন এগোয় না। বড় স্বপ্ন দেখো, ভয় কমাও এবং মহৎ মানুষের জীবনকথা থেকে অনুপ্রেরণা নাও। তিনি আরও বলেন, নিজের শখকে বাস্তব কাজে রূপান্তর করলে সৃজনশীলতা বাড়ে এবং প্রতিক্রিয়া থেকেই সাফল্যের পথ তৈরি হয়।
উল্লেখ্য, ‘পরীক্ষা পে চর্চা’ কর্মসূচির মাধ্যমে পরীক্ষাকে আতঙ্ক নয়, উৎসব হিসেবে গ্রহণ করার বার্তা দেওয়া হয়। চলতি বছর দেবমোগরা, কোয়েম্বাটুর, রায়পুর, গুয়াহাটি এবং দিল্লির ৭ লোক কল্যাণ মার্গে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মত বিনিময় হয়। শিক্ষা মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, মাইগভ পোর্টালের মাধ্যমে এবছর সাড়ে চার কোটির বেশি ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও অভিভাবক এই কর্মসূচিতে নাম নথিভুক্ত করেছেন।
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান জানান, এই কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং তাদের সার্বিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।


Leave feedback about this