2026-02-06
Ramnagar, Agartala,Tripura
দেশ

“চিকেন নেকের দুর্বলতা কাটাতে আন্ডারগ্রাউন্ড রেল টানেল—অসম সরকারের বড় আশা”

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- শিলিগুড়ি করিডোরের মধ্য দিয়ে প্রস্তাবিত ভূগর্ভস্থ রেল টানেল প্রকল্পকে স্বাগত জানিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। একে তিনি ‘গেম-চেঞ্জিং’ উদ্যোগ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তর-পূর্ব ভারত ও দেশের বাকি অংশের মধ্যে যোগাযোগ আরও মজবুত হবে এবং যাত্রী ও পণ্য পরিবহণ নির্বিঘ্ন হবে।

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্প উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরেই উত্তর-পূর্বাঞ্চল স্থল যোগাযোগের জন্য শিলিগুড়ি করিডোরের ওপর নির্ভরশীল, যা সাধারণভাবে ‘চিকেন নেক’ নামে পরিচিত।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানিয়ে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, এই দূরদর্শী প্রস্তাব জাতীয় ঐক্য এবং ভারসাম্যপূর্ণ আঞ্চলিক উন্নয়নের প্রতি কেন্দ্র সরকারের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। তিনি বলেন, শিলিগুড়ি করিডোর দিয়ে প্রস্তাবিত ভূগর্ভস্থ রেল টানেল উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করবে এবং যাত্রী ও পণ্য পরিবহণের জন্য একটি নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন সংযোগ গড়ে তুলবে।

মুখ্যমন্ত্রী আগেও শিলিগুড়ি করিডোরের কৌশলগত দুর্বলতার কথা তুলে ধরেছেন। এটি মূল ভূখণ্ড ভারতের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সংযোগকারী একটি অত্যন্ত সংকীর্ণ স্থলপথ। তিনি একে শুধু লজিস্টিক লাইফলাইন নয়, বরং একটি সংবেদনশীল জাতীয় নিরাপত্তা অঞ্চলেও পরিণত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, শুধুমাত্র একটি স্থল করিডোরের ওপর নির্ভরতা প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দুর্ঘটনা বা অন্য কোনও বাধার সময় বড় ঝুঁকি তৈরি করে, যার ফলে উত্তর-পূর্বাঞ্চল কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে। তাই তিনি বিকল্প যোগাযোগপথ ও আধুনিক অবকাঠামো সমাধানের পক্ষে বরাবরই সওয়াল করেছেন—যার মধ্যে টানেল, উন্নত রেল ও সড়ক নেটওয়ার্ক অন্তর্ভুক্ত।

আধিকারিকদের মতে, প্রস্তাবিত ভূগর্ভস্থ রেল টানেল শিলিগুড়ি করিডোর দিয়ে একটি নিরাপদ ও সারাবছর ব্যবহারযোগ্য পথ তৈরি করবে, ফলে বর্তমান দুর্বলতাগুলি অনেকটাই কমে যাবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে পণ্য ও কাঁচামাল পরিবহণ আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য হওয়ায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বাণিজ্য, পর্যটন ও শিল্পোন্নয়নে গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, উত্তর-পূর্বে যোগাযোগব্যবস্থা শক্তিশালী করার উপর কেন্দ্র সরকারের জোর ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতি ও ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যপূরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এতে করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সংযোগের ক্ষেত্রে উত্তর-পূর্ব ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ গেটওয়ে হয়ে উঠতে পারে।

উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই হাইওয়ে, রেলপথ, সেতু ও জলপথে বড় মাপের বিনিয়োগ চলছে। প্রস্তাবিত এই ভূগর্ভস্থ রেল টানেলকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে দেশের অর্থনৈতিক মূলধারার সঙ্গে আরও দৃঢ়ভাবে যুক্ত করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অসম সরকার মনে করছে, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থার ফলে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত খুলবে এবং একই সঙ্গে ‘চিকেন নেক’ করিডোর ঘিরে দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত ও কৌশলগত উদ্বেগের সমাধানও সম্ভব হবে।

    Leave feedback about this

    • Quality
    • Price
    • Service