জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহা আজ বলেছেন, VB G RAM G আইন দেশের গ্রামীণ মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। এই আইন গ্রামীণ উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন দিশা দেখাবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
আগরতলার প্রদেশ বিজেপি কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, লোকসভা ও রাজ্যসভায় VB G RAM G বিল নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। কিন্তু বিল পাশ হওয়ার পরেও বিরোধীরা বাইরে একই বিতর্ক চালিয়ে যাচ্ছেন, যা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “১৯৭৭ সালের মহারাষ্ট্র এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি অ্যাক্টের অভিজ্ঞতা থেকেই পরে MNREGA আইন প্রণীত হয়েছিল। তবে এই ব্যবস্থায় নানা ত্রুটি ছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্র সরকার একের পর এক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ‘ইজ অফ ডুয়িং’, ‘ইজ অফ লিভিং’ এবং ‘ইজ অফ বিজনেস’ নিশ্চিত করতেই এই সংস্কার জরুরি।”
তিনি জানান, VB G RAM G আইন MNREGA-র পরিবর্তে একটি নতুন কাঠামো প্রবর্তন করতে চলেছে, যেখানে কর্মসংস্থানের গ্যারান্টি বাড়ানো হয়েছে, গ্রামীণ উন্নয়নের জন্য পৃথক তহবিল রাখা হয়েছে এবং টেকসই পরিকাঠামো নির্মাণের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। “আগে কাজ হতো, কিন্তু তার স্থায়িত্ব থাকত না,” বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
ডা. সাহা আরও বলেন, এই নতুন কাঠামোর মাধ্যমে কর্মসংস্থান প্রকল্পে জবাবদিহিতা আরও কঠোর করা হয়েছে এবং কেন্দ্র সরকার এই উদ্যোগে ৯৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দ নিশ্চিত করেছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই বিল ভারতের গ্রামীণ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের দৃষ্টিভঙ্গিতে এক বড় পরিবর্তনের প্রতিফলন। VB G RAM G আইন সত্যিই ঐতিহাসিক। সাধারণ মানুষের কথা ভাবার জন্য আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ধন্যবাদ জানাই। গ্রামীণ মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ছাড়া দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। শুধু শহরকেন্দ্রিক উন্নয়নে কিছুই হবে না।”
তিনি জানান, যেখানে আগে ১০০ দিনের কাজের গ্যারান্টি ছিল, এখন তা বাড়িয়ে ১২৫ দিন করা হয়েছে। পাশাপাশি মজুরি প্রদানে আর দেরি হবে না বলেও আশ্বাস দেন তিনি। গ্রামসভাকে আরও শক্তিশালী করে বিকেন্দ্রীকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নতুন আইনে জল সংরক্ষণ, জল সুরক্ষা, স্থায়ী সম্পদ সৃষ্টি, জীবিকা উন্নয়ন, গ্রামীণ পরিকাঠামো গড়ে তোলা এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলেও মুখ্যমন্ত্রী জানান।


Leave feedback about this