2026-01-05
Ramnagar, Agartala,Tripura
রাজ্য

কৃষিকে ভিত্তি করে স্বনির্ভর ত্রিপুরা গঠনের লক্ষ্য, রাজ্যজুড়ে ৬০টি নতুন কৃষি বাজারে ব্যয় হবে ১৫৮ কোটি টাকা

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- মানুষকে স্বনির্ভর করে তোলাই বর্তমান রাজ্য সরকারের মূল লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের দিশায় রাজ্যজুড়ে ৬০টি নতুন কৃষি বাজার নির্মাণে ১৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনও রাজনৈতিক ভেদাভেদ না রেখে সমস্ত বিধানসভা কেন্দ্রেই কৃষি বাজার গড়ে তোলা হবে বলে জানালেন কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী রতন লাল নাথ।

দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার মনপাথর বাজারে একটি নতুন বাজার স্টল ও একটি দ্বি-তল বিশিষ্ট বাজার কমপ্লেক্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী এই কথা বলেন। একই দিনে তিনি শান্তিরবাজারে প্রাথমিক গ্রামীণ বাজারের পরিকাঠামো উন্নয়ন কাজেরও উদ্বোধন করেন।

পরবর্তী কর্মসূচিতে মন্ত্রী দক্ষিণ জেলার বীরচন্দ্র মনুতে অবস্থিত সেন্টার অফ এক্সিলেন্স (ভেজিটেবলস) পরিদর্শন করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, সারা দেশে এমন মোট ৬০টি কেন্দ্র রয়েছে, যার মধ্যে দুটি ত্রিপুরায়—একটি সিপাহীজলার জুমেরঢেপায় এবং অন্যটি দক্ষিণ ত্রিপুরার বীরচন্দ্র মনুতে।

মন্ত্রী বলেন, এই কেন্দ্রগুলিতে ইজরায়েল ও ভারতের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সমন্বয়ে সারা বছর উন্নতমানের বিভিন্ন প্রজাতির সবজি চারা উৎপাদন করা হয়। বিশেষ করে মাটি ছাড়াই চারা উৎপাদনের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এখানে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা কৃষিক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।

এদিন মন্ত্রী নতুন বি ভি জি রাম জি আইন ২০২৫ প্রসঙ্গেও আলোকপাত করেন। তিনি জানান, এই আইনের ফলে এমজিএনরেগার অধীনে কর্মদিবস ১০০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২৫ দিন করা হয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির ক্ষেত্রে প্রকল্প ব্যয়ের ৯০ শতাংশ দেবে কেন্দ্র সরকার এবং ১০ শতাংশ দেবে রাজ্য সরকার। অন্য রাজ্যগুলিতে এই অনুপাত যথাক্রমে ৬০ ও ৪০ শতাংশ।

রতন লাল নাথ আরও বলেন, ২০১৮ সালের আগে সাত বছরে তৎকালীন সরকার নতুন বাজার ও বাজার স্টলের জন্য মাত্র ২০ কোটি টাকা ব্যয় করেছিল। কিন্তু ২০১৮ সালের পর থেকে বর্তমান সরকার এই খাতে ৩০৩ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। চলতি বছরেও নতুন বাজার স্থাপন অব্যাহত থাকবে এবং ৬০টি বাজারের জন্য ১৫৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, উন্নয়নমূলক কাজে সরকার কোনও রাজনৈতিক রং দেখে না। কৃষিই আমাদের রাজ্যের ভিত্তি, তাই এই বাজারগুলি মূলত কৃষকদের স্বার্থেই গড়ে তোলা হচ্ছে। সকলকে বাজারগুলির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিতে হবে বলেও তিনি আহ্বান জানান।

তিনি জানান, ত্রিপুরায় প্রায় ৮ লক্ষ ১০ হাজার সম্পদ সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের মূল উদ্দেশ্য ঘরে ঘরে কর্মসংস্থান পৌঁছে দেওয়া। বাজারগুলিকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যাতে দূরদূরান্ত থেকেও মানুষ এখানে এসে কেনাকাটা করে। গুণগত মানের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

স্বনির্ভরতার ক্ষেত্রে মহিলাদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের আগে রাজ্যে সেলফ হেল্প গ্রুপের সংখ্যা ছিল মাত্র ৪,১৬০টি, যা বর্তমানে বেড়ে হয়েছে ৫০,০৫৪টি। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকারের আমলে ১ লক্ষ ৮ হাজার ‘দিদি’ লক্ষপতি দিদি হয়েছেন, যার মধ্যে দক্ষিণ ত্রিপুরার সংখ্যা সর্বাধিক।

মন্ত্রী বলেন, “আমরা শুধু কথা বলি না, কাজ করে দেখাই। কোনও সরকারই সবাইকে সরকারি চাকরি দিতে পারে না। তাই আমরা কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছি এবং মানুষকে স্বনির্ভর করে তুলছি।” তাঁর কথায়, বর্তমান সরকারের নীতির ফলেই রাজ্যের মহিলারা আজ স্বাবলম্বী হয়ে উপার্জনের পথে এগিয়ে চলেছেন।

    Leave feedback about this

    • Quality
    • Price
    • Service