জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- বাল্যবিবাহ রোধে জন আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। একটি দেশ তখনই সমৃদ্ধ হবে যখন নারী ও পুরুষ সমঅধিকার ভোগ করবে। সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের সমস্ত প্রকল্প সম্পর্কে জনপ্রতিনিধিদেরও অবহিত হয়ে গ্রামীণ জনগণকে সচেতন করতে হবে। সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা মন্ত্রী টিস্কু রায় আজ প্রজ্ঞাভবনের ১নং হলে দপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ণ নিয়ে আয়োজিত পশ্চিম জেলাভিত্তিক একদিনের সচেতনতা কর্মশালায় এই কথা বলেন। কর্মশালায় পশ্চিম জেলার ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতের প্রতিনিধিগণ, আগরতলা পুরনিগমের কর্পোরেটরগণ, পুর পরিষদের কাউন্সিলারগণ, নগর পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধিগণ, শিশু কল্যাণ কমিটি, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, সহায়িকা, জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের সদস্য ও সদস্যাগণ অংশ নেন।
কর্মশালার উদ্বোধন করে সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা মন্ত্রী টিন্তু রায় বলেন, সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তর একজন ব্যক্তির জন্মের আগে থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বিভিন্ন পরিসেবা দিচ্ছে। জন কল্যাণে এই দপ্তরের বহু প্রকল্প রয়েছে। এসমস্ত প্রকল্প সম্পর্কে সম্যক ধারণা দিতে এই কর্মশালা সদর্থক ভূমিকা নেবে।
তিনি বলেন, রাজ্য সরকার শিশু ও নারী কল্যাণে অগ্রাধিকার দিয়েছে। প্রতিটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে শিক্ষা, সুষম খাদ্য, পানীয়জল, শৌচালয় প্রভৃতি সুযোগ সুবিধা সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা শিশু ও নারী কল্যাণে আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। রাজ্যে ৭০ হাজারের বেশি দিব্যাঙ্গজন রয়েছেন। ইতিমধ্যে ৪০ হাজারের বেশি দিব্যাঙ্গজনকে ইউডি আইডি কার্ড দেওয়া হয়েছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা গ্রহণের জন্য স্পনসরশিপ এবং ফোস্টার কেয়ার অ্যালাইন্স প্রকল্পে একজন শিশুকে মাসে ৪ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী অন্ত্যোদয় শ্রদ্ধাঞ্জলী যোজনায় মৃত ব্যক্তির পরিবারকে ২০০০ টাকা করে সহায়তা করা হচ্ছে। রাজ্যে ৩৪টি সামাজিক ভাতা প্রকল্পে বছরে ৪ লক্ষ ৮০০০ জনকে বিভিন্ন সামাজিক ভাতা দেওয়া হচ্ছে।
সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা মন্ত্রী বলেন, জ্যুভেনাইল জাস্টিস ফান্ডে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত একজন শিশুকে চিকিৎসার জন্য ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা দেবার সংস্থান রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বালিকা সমৃদ্ধি যোজনায় বিপিএল কন্যা সন্তানের নামে রাজ্য সরকার ৫০ হাজার টাকার বন্ড রাখবে। ১৮ বছর পর সেই কন্যা সন্তান ৮ থেকে ১০ লক্ষ টাকা পাবে। এছাড়া মুখ্যমন্ত্রী কন্যা আত্মনির্ভর যোজনায় বিভিন্ন বোর্ড থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতি ১৪০ জন ছাত্রীকে স্কুটি প্রদান করা হবে। ১ লক্ষ ২০ হাজার ছাত্রীকে বাইসাইকেল দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি আগরতলা পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার বলেন, সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের প্রকল্পগুলি সম্পর্কে জনপ্রতিনিধিগণ অবহিত হয়ে গ্রামীণ জনগণকে সচেতন করলেই এই কর্মশালা সার্থক হয়ে উঠবে। তিনি বলেন, রাজ্য সরকার শিশু, নারী ও দিব্যাঙ্গজনদের সার্বিক উন্নয়নে বহুমুখী প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এছাড়া বক্তব্য রাখেন পশ্চিম জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক সজল বিশ্বাস। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার সমাজ শিক্ষা পরিদর্শক দীপকলাল সাহা।
উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের ডেপুটি মেয়র মণিকা দাস দত্ত, সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা তপন কুমার দাস প্রমুখ। কর্মশালায় গত দুর্গাপূজায় প্রবীণ নাগরিকদের কল্যাণে দপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্প প্রদর্শণের জন্য কল্যাণ সমিতিকে ১ম, নেতাজী যুবশক্তি সংঘকে ২য় এবং রয়েল ক্লাবকে ৩য় পুরস্কারে পুরস্কৃত করা হয়।
ক্লাবগুলিকে যথাক্রমে ২০ হাজার টাকা, ১৫ হাজার টাকা ও ১০ হাজার টাকার চেক দেওয়া হয়। এছাড়া ৩ জন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও ৩ জন সহায়িকাকে সম্মানিত করা হয়। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সহ অতিথিগণ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। সভাপতিত্ব করেন পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের সহকারি সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল।
Leave feedback about this