2026-01-09
Ramnagar, Agartala,Tripura
রাজনৈতিক রাজ্য

আইন-শৃঙ্খলা ভালো হলে বিরোধী সভায় বাধা কেন? প্রশ্ন জিতেন্দ্র চৌধুরীর

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- জন্মদিনের শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানালেও মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহাকে বিভ্রান্তিকর ও ভ্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে জনসমক্ষে বক্তব্য না রাখার অনুরোধ জানালেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। একই সঙ্গে তিনি ত্রিপুরার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালক (ডিজিপি) অনুরাগ ধানকার, আইপিএস-এর সাম্প্রতিক দাবিকে সম্পূর্ণ অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে তীব্রভাবে নাকচ করেন।

বুধবার সকালে সিপিআই(এম)-এর দশরথ দেব স্মৃতি ভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, “গত ২০ বছরের মধ্যে ত্রিপুরার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাকি সবচেয়ে ভালো—এই দাবি বাস্তবতার সঙ্গে একেবারেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।” তাঁর অভিযোগ, বিজেপির কর্মসূচি চলাকালীনও রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা ঘটছে।

তিনি দাবি করেন, টিপরা মথা দলের সমর্থকদের দ্বারা বিজেপির জনসভায় হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর জনসভাতেও আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় হামলার আশঙ্কায় বিপুল সংখ্যক টিএসআর, পুলিশ ও সিআরপিএফ মোতায়েন করতে হচ্ছে। “যদি পরিস্থিতি এতটাই ভালো হয়, তাহলে মুখ্যমন্ত্রীর সভায় এত নিরাপত্তা কেন?”—প্রশ্ন তোলেন বিরোধী দলনেতা।

পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও গুরুতর অভিযোগ করেন জিতেন্দ্র চৌধুরী। তিনি বলেন, সিপিআই(এম) বা অন্যান্য বিরোধী দল সভা-সমাবেশের জন্য অনুমতি চাইলে প্রায়শই আইন-শৃঙ্খলার অজুহাতে অনুমতি দেওয়া হয় না। অথচ একই সময়ে সরকারপক্ষের কর্মসূচি নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। “আইন-শৃঙ্খলা যদি ভালোই থাকে, তবে বিরোধী দলের সভা করতে বাধা কোথায়?”—প্রশ্ন করেন তিনি।

ডিজিপির ব্যক্তিগত সম্মান অক্ষুণ্ণ রেখেও জিতেন্দ্র চৌধুরীর অভিযোগ, বিজেপি সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষা ও মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভ্রান্ত তথ্য তুলে ধরছেন। বছরের শুরুতেই গত বছরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনার নামে মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বিরোধী দলনেতার আরও অভিযোগ, বিজেপি সরকার শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থ নয়, সংবিধান ও আইনের শাসনও লঙ্ঘন করছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি সাম্প্রতিক একটি ঘটনার উল্লেখ করেন, যেখানে পুলিশ সদর দপ্তরের সামনে সিপিআই(এম)-এর একটি সভায় হামলা হলেও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং পশ্চিম থানার পক্ষ থেকে প্রথমে মামলা নিতেও অনীহা দেখা যায়।

এই প্রেক্ষাপটে জিতেন্দ্র চৌধুরী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এমন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে ডিজিপির পক্ষে ত্রিপুরার আইন-শৃঙ্খলা বিগত দুই দশকের মধ্যে সেরা—এমন দাবি করার কোনও নৈতিক বা প্রশাসনিক অধিকার নেই।” তিনি রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন ও শাসনব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির জোরালো দাবি জানান।

 

 

 

    Leave feedback about this

    • Quality
    • Price
    • Service