December 2025
ঢাকাস্থ হাইকমিশনের বাইরে বিক্ষোভ নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচার, অভিযোগ খারিজ করল ভারত
জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনের বাইরে বিক্ষোভ ঘিরে কোনও নিরাপত্তা লঙ্ঘনের চেষ্টা হয়নি বলে স্পষ্ট করে জানাল ভারত। এক সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে বিদেশ মন্ত্রক (MEA) জানিয়েছে, গতকাল প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন যুবক বাংলাদেশের ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাসের নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বাংলাদেশের হাইকমিশনের সামনে জড়ো হয়েছিলেন।
বিদেশ মন্ত্রক জানায়, ওই বিক্ষোভকারীরা কোনও বেড়া টপকানোর চেষ্টা করেননি কিংবা কোনও নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। তারা বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার দাবিও তোলেন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলে মোতায়েন পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
এমইএ আরও জানায়, এই ঘটনাকে ঘিরে বাংলাদেশের কিছু সংবাদমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও ভ্রান্ত প্রচার চালানো হচ্ছে। মন্ত্রকের দাবি, ঘটনার ভিডিও প্রমাণ প্রকাশ্যে রয়েছে, যা যে কেউ দেখতে পারেন।
বিদেশ মন্ত্রক পুনরায় জানায়, ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী ভারতে অবস্থিত বিদেশি কূটনৈতিক মিশন ও দপ্তরগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একইসঙ্গে বাংলাদেশে উদ্ভূত পরিস্থিতির উপর ভারত ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে বলেও জানানো হয়।
এমইএ জানায়, ভারতীয় আধিকারিকরা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনায় ভারতের গভীর উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দীপু চন্দ্র দাসের বর্বর হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার জন্যও বাংলাদেশ সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজ অসমের ডিব্রুগড় জেলার নামরুপে ১০,৬০১ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক সার কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে উত্তর-পূর্ব ভারতে সার উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হবে। প্রস্তাবিত এই কারখানায় বছরে ১২.৭ লক্ষ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সার কারখানা শুধু অসমের চাহিদাই পূরণ করবে না, বরং পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলিকেও সার সরবরাহ করবে। পাশাপাশি, বিদেশ থেকে সার আমদানির উপর নির্ভরতা কমবে, কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং গোটা অঞ্চলের শিল্পোন্নয়নে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করবে।
প্রধানমন্ত্রী কংগ্রেস সরকারের সমালোচনা করে বলেন, নামরুপের পুরনো সার কারখানাগুলির প্রযুক্তি বহু আগেই অচল হয়ে পড়েছিল। কিন্তু তৎকালীন কংগ্রেস সরকার এই সমস্যার সমাধানে কোনও উদ্যোগ নেয়নি। ফলে একের পর এক ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। তিনি বলেন, কংগ্রেসের তৈরি করা সেই সমস্যাগুলির সমাধান আজ ডাবল ইঞ্জিন সরকার করছে।
তিনি আরও জানান, ২০১৪ সালে দেশে মোট ইউরিয়া উৎপাদন ছিল মাত্র ২২৫ লক্ষ মেট্রিক টন। গত ১০-১১ বছরের নিরলস পরিশ্রমের ফলে বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০৬ লক্ষ মেট্রিক টনে।
এর আগে আজ প্রধানমন্ত্রী গুয়াহাটির পশ্চিম বরাগাঁওয়ে অবস্থিত স্বহীদ স্মারক ক্ষেত্রে গিয়ে অসম আন্দোলনের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে তিনি ‘পরীক্ষা পে চর্চা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে অসমের ২৫ জন মেধাবী ছাত্রছাত্রীর সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। বিশেষ এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে ব্রহ্মপুত্র নদীতে একটি ক্রুজে, যা পরীক্ষার আগে ছাত্রদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এক অভিনব সংলাপ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গতকাল প্রধানমন্ত্রী গুয়াহাটির লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদলৈ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল ভবনের উদ্বোধন করেন। পাশাপাশি, নতুন টার্মিনাল চত্বরে অসমের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ও ভারতরত্ন লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদলৈয়ের একটি মূর্তি উন্মোচন করে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী।
জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী (বিএসএফ)-তে কনস্টেবল (জেনারেল ডিউটি) পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাক্তন অগ্নিবীরদের কোটা ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
গেজেট নোটিফিকেশন অনুযায়ী, প্রথম ব্যাচের প্রাক্তন অগ্নিবীররা কনস্টেবল নিয়োগে বয়সের ঊর্ধ্বসীমায় সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের ছাড় পাবেন। পরবর্তী ব্যাচের প্রাক্তন অগ্নিবীরদের ক্ষেত্রে এই ছাড় হবে তিন বছর। এছাড়াও, প্রাক্তন অগ্নিবীরদের শারীরিক মান পরীক্ষা (PST) ও শারীরিক দক্ষতা পরীক্ষা (PET) থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়া হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০১৫ সালের ‘বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স, জেনারেল ডিউটি ক্যাডার (নন-গেজেটেড) রিক্রুটমেন্ট রুলস’-এ সংশোধনী এনে এই কোটা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রত্যেক নিয়োগ বছরে সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে (৫০ শতাংশসহ) শূন্যপদের সংরক্ষণ থাকবে প্রাক্তন অগ্নিবীরদের জন্য। পাশাপাশি, ১০ শতাংশ পদ সংরক্ষিত থাকবে প্রাক্তন সেনাকর্মীদের জন্য এবং বার্ষিক শূন্যপদের সর্বোচ্চ তিন শতাংশ পর্যন্ত কম্বাটাইজড কনস্টেবল (ট্রেডসম্যান) পদে আত্মীকরণের সুযোগ থাকবে।
কেন্দ্র সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রাক্তন অগ্নিবীরদের জন্য কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বিস্তৃত হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সমাজকে সংগঠিত করা অত্যন্ত প্রয়োজন বলে মন্তব্য করলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর সরসংঘচালক ডা. মোহন ভাগবত। আজ আরএসএস-এর ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে কলকাতার সায়েন্স সিটিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ডা. ভাগবত বলেন, ভারতে হিন্দু সমাজকে সংগঠিত করার প্রয়োজন রয়েছে। তাঁর মতে, সমাজের সাধারণ মানুষ বিশিষ্ট ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের আচরণ ও আদর্শ অনুসরণ করেন। তাই এমন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ে একটি সুসংগঠিত কাঠামো গড়ে তোলা বিশেষভাবে জরুরি।
আরএসএস প্রধান স্পষ্ট করে বলেন, সংঘ কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরোধিতা কিংবা প্রতিক্রিয়া হিসেবে গড়ে ওঠেনি। সংঘের মূল লক্ষ্য সমাজকে সংগঠিত করা এবং দায়বদ্ধতার সঙ্গে নিজেদের কর্তব্য পালন করা।
তিনি আরও জানান, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ কোনও ব্যক্তিগত স্বার্থ কিংবা সংগঠনের লাভের জন্য কাজ করে না; বরং দেশ ও সমাজের কল্যাণে নিজেদের অঙ্গীকার পূরণ করাই সংঘের প্রধান উদ্দেশ্য।
এমজিএনরেগার পরবর্তী ধাপ ‘বিকশিত ভারত গ্রাম জি র্যাম জি বিল’: শিবরাজ সিং চৌহান
জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান জানিয়েছেন, ‘বিকশিত ভারত গ্রাম জি র্যাম জি বিল’ হল এমজিএনরেগা প্রকল্পের পরবর্তী উন্নত ধাপ, যা উন্নয়ন ও দরিদ্র মানুষের স্বার্থে গৃহীত হয়েছে। এক সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি এই বিল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
মন্ত্রী জানান, নতুন এই বিলের মাধ্যমে গ্রামীণ পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যদের জন্য বছরে ১২৫ দিনের মজুরি-ভিত্তিক কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। আগে যেখানে এমজিএনরেগার আওতায় ১০০ দিনের কাজের নিশ্চয়তা ছিল, সেখানে এই বিলে তা আরও বাড়ানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ না পেলে বেকার ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, মজুরি প্রদানে বিলম্ব হলে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ারও বিধান রয়েছে। কৃষি মৌসুমে কৃষকদের যে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, সেই বিষয়গুলিও এই বিলে বিশেষভাবে বিবেচনা করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
শিবরাজ সিং চৌহান জানান, এই বিলের জন্য ১ লক্ষ ৫১ হাজার কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এছাড়াও প্রশাসনিক খরচের অংশ ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯ শতাংশ করা হয়েছে, যাতে পঞ্চায়েত সচিব, কর্মসংস্থান সহায়ক এবং কারিগরি কর্মীদের সময়মতো ও পর্যাপ্ত বেতন দেওয়া সম্ভব হয়।
বিলটি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, জল সংরক্ষণ, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, জীবিকা সংক্রান্ত কাজ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে সুরক্ষার মতো প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই বিল গ্রামগুলিকে স্বনির্ভর ও দারিদ্র্যমুক্ত করে তুলতে সাহায্য করবে। তিনি আরও বলেন, এই বিলের মাধ্যমে বিকশিত গ্রামের সংকল্প পূরণ হয়ে একটি বিকশিত ভারতের নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
ভারত ও ইথিওপিয়া এক পরিবারের মতো, আরও ন্যায়সঙ্গত ও শান্তিপূর্ণ বিশ্বের লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করবে: প্রধানমন্ত্রী মোদি
জনতার কলম ওয়েবডেস্ক:- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজ বলেছেন, ভারত ও ইথিওপিয়া এক পরিবারের সদস্য হিসেবে আরও ন্যায়সঙ্গত, সমতাভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গঠনের লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করছে। আজ সকালে ইথিওপিয়ার সংসদের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
গ্লোবাল সাউথের আকাঙ্ক্ষা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্লোবাল সাউথ এখন নিজের ভবিষ্যৎ নিজেই রচনা করছে। ভারত ও ইথিওপিয়া এই বিষয়ে একই দৃষ্টিভঙ্গি ভাগ করে নিয়েছে। তাঁর কথায়, এই দৃষ্টিভঙ্গি এমন এক বিশ্বের, যেখানে গ্লোবাল সাউথ কারও বিরুদ্ধে নয়, বরং সবার জন্য এগিয়ে যাবে।
দুই দেশের প্রাচীন সম্পর্কের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, সংহতিই শক্তি এবং সহযোগিতাই ক্ষমতা। প্রাচীন সভ্যতা হিসেবে ভারত ও ইথিওপিয়া আজ একসঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি জানান, তাঁর সরকারের গত ১১ বছরে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের বিশ্ব ১৯৪৫ সালের বিশ্ব নয়। তাই সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াতেও বর্তমান বাস্তবতার প্রতিফলন থাকা জরুরি। অতীতের কাঠামোয় আটকে থাকলে বিশ্ব এগোতে পারবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ইথিওপিয়া সফর শেষ করে প্রধানমন্ত্রী এরপর তিন দেশের সফরের শেষ পর্বে ওমানের উদ্দেশে রওনা হন। এর আগে সংসদের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার পূর্বে তিনি আদ্দিস আবাবায় অবস্থিত আদওয়া বিজয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।
এর আগে গতকাল আদ্দিস আবাবায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবিয় আহমেদ আলি-র মধ্যে বিস্তৃত দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর ভারত ও ইথিওপিয়া তাদের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্বে’ উন্নীত করেছে।
দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় এবং মোট আটটি সমঝোতা স্মারক (MoU) ও চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীতকরণ, কাস্টমস সহযোগিতা, ইথিওপিয়ার বিদেশ মন্ত্রকে একটি ডেটা সেন্টার স্থাপন, রাষ্ট্রসংঘ শান্তিরক্ষা প্রশিক্ষণে সহযোগিতা, জি-২০ কাঠামোর আওতায় ঋণ পুনর্গঠন, আইসিসিআর বৃত্তি বৃদ্ধি এবং ইথিওপিয়ার নাগরিকদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সংক্রান্ত স্বল্পমেয়াদি কোর্স।
দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ফলাফল সম্পর্কে বিদেশ মন্ত্রকের সচিব সুধাকর দলেলা বলেন, সম্পর্ককে কৌশলগত স্তরে উন্নীত করার ফলে ভারত-ইথিওপিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব নতুন মাত্রা পাবে। তিনি জানান, শিক্ষা ও ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার খাতে সহযোগিতায় দুই দেশ বিশেষভাবে আগ্রহী।
এদিকে সফরকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ইথিওপিয়ার সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘দ্য গ্রেট অনার নিশান অব ইথিওপিয়া’ প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী আবিয় আহমেদ আলি।
জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- সংসদে পাস হল রিপিলিং অ্যান্ড অ্যামেন্ডিং বিল, ২০২৫। আজ রাজ্যসভায় আলোচনার পর বিলটি অনুমোদিত হয়েছে। এর আগে গতকাল লোকসভায় বিলটি পাস হয়।
এই বিলের মাধ্যমে মোট ৭১টি আইন বাতিল করা হয়েছে এবং কয়েকটি আইনে সংশোধনী আনা হয়েছে। বাতিল হওয়া আইনগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল— ইন্ডিয়ান ট্রামওয়েজ অ্যাক্ট, ১৮৮৬, লেভি সুগার প্রাইস ইকুয়ালাইজেশন ফান্ড অ্যাক্ট, ১৯৭৬, এবং ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (কর্মীদের পরিষেবা শর্ত নির্ধারণ) আইন, ১৯৮৮।
বিলের আওতায় চারটি আইনে সংশোধন আনা হয়েছে। এর মধ্যে জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭ এবং সিভিল প্রোসিডিউর কোড, ১৯০৮-এ নিবন্ধিত ডাক পরিষেবা সংক্রান্ত পরিভাষা হালনাগাদ করা হয়েছে। পাশাপাশি, ইন্ডিয়ান সাকসেশন অ্যাক্ট, ১৯২৫ সংশোধন করে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আদালতের মাধ্যমে উইল যাচাইয়ের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৫-এ একটি খসড়াগত ত্রুটি সংশোধন করা হয়েছে।
আইন ও বিচার মন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল বলেন, এই বিল ব্যবসা করা সহজ করা ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করার লক্ষ্যে আনা হয়েছে। তিনি জানান, সরকার ‘ন্যূনতম সরকার, সর্বাধিক শাসন’ নীতিতে বিশ্বাসী। ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট আইনে সংশোধন প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, খসড়াগত ভুল সংশোধনের জন্য সেখানে ‘প্রিভেনশন’ শব্দের পরিবর্তে ‘প্রিপারেশন’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে অপ্রাসঙ্গিক ও অচল আইন বাতিলের প্রক্রিয়া চলতে থাকবে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, মামলার জট কমানোর দিকেও সরকার কাজ করছে এবং এজন্য বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। সংসদে বিল উত্থাপনকালে তিনি জানান, মে ২০১৪ থেকে এ পর্যন্ত মোট ১,৫৭৭টি অপ্রাসঙ্গিক আইন বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ১,৫৬২টি আইন সম্পূর্ণভাবে বাতিল এবং ১৫টি আইন পুনর্নির্মিত হয়েছে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে কংগ্রেস সাংসদ বিবেক কে তাঙ্খা আদালতগুলিতে মামলার সংখ্যা কমানোর উপর জোর দেন এবং বলেন, এই বিল সরকারের নাগরিক-কেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। বিজেপি সাংসদ সুভাষ বারালা বলেন, এই বিল জীবনযাত্রা সহজ করবে এবং অপ্রয়োজনীয় আইন বাতিলের পথ প্রশস্ত করবে। এআইএডিএমকে সাংসদ ড. এম. তাহমাবিদুরাই ভালমিকি সম্প্রদায়কে তফসিলি উপজাতি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।
আলোচনায় আরও অংশ নেন তৃণমূল কংগ্রেসের সুশমিতা দেব, ডিএমকের কে আর এন রাজেশ কুমার, ওয়াইএসআরসিপির সুভাষ চন্দ্র বোস পিল্লি, সিপিআই(এম)-এর এ এ রহিম এবং বিজেপির মদন রাঠোর।
জনতার কলম ওয়েবডেস্ক:- রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, গত কয়েক বছরে নেওয়া একাধিক সুরক্ষা উদ্যোগের ফলে দেশে রেল দুর্ঘটনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। লোকসভায় প্রশ্নোত্তর পর্বে সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ২০১৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে রেল দুর্ঘটনা প্রায় ৯০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
মন্ত্রী জানান, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘কবচ’ (Kavach) নামের স্বয়ংক্রিয় ট্রেন সুরক্ষা ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই জটিল ব্যবস্থার মধ্যে পাঁচটি প্রধান সিস্টেম রয়েছে। ইতিমধ্যে ভারতীয় রেলওয়ে ৭,১২৯ কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার কেবল স্থাপন করেছে, ৮৬০টি টেলিকম টাওয়ার বসানো হয়েছে, ৭৬৭টি স্টেশনে স্টেশন ডেটা সেন্টার চালু হয়েছে এবং ৪,১৫৪টি লোকোমোটিভে কবচ ব্যবস্থার সংযোজন করা হয়েছে।
রেল মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার পিছনে থাকা কাঠামোগত বা সিস্টেমগত ত্রুটির মূল কারণ খুঁজে বের করে তা সমাধানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, নিরাপত্তা সংক্রান্ত সব বিষয় মোকাবিলায় ভারতীয় রেলওয়ের গোটা দল আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে।
আরেকটি সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে রেলমন্ত্রী জানান, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে স্টেশন পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ‘অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্প’ চালু করা হয়েছে। দ্রুত গতিতে এই কাজ এগোচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, এটি বিশ্বের বৃহত্তম রেলওয়ে স্টেশন পুনর্গঠন কর্মসূচি। চলমান ট্রেন চলাচলের মধ্যেই স্টেশন উন্নয়নের কাজ হলেও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মহারাষ্ট্রের পালঘরে আসন্ন ভাধাবন বন্দর প্রকল্পের কারণে কার্যত একটি নতুন শহর গড়ে উঠছে। বিশ্বের বৃহত্তম বন্দরগুলোর একটি হতে চলা এই ভাধাবন বন্দরের সঙ্গে ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডরের সংযোগ স্থাপন করা হচ্ছে। পাশাপাশি মুম্বইয়ে নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে স্বয়ংক্রিয় দরজা বন্ধের ব্যবস্থা-সহ ২৩৮টি নতুন ট্রেন কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানান রেলমন্ত্রী।
জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- দেশের প্রচলিত টোল আদায় ব্যবস্থার পরিবর্তে আগামী বছরের শেষ নাগাদ সারা দেশে অটোমেটিক নাম্বার প্লেট রিকগনিশন (ANPR) সিস্টেম চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গড়করি। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় সড়কে যানবাহনের গতি আরও মসৃণ হবে এবং যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে জানান তিনি।
আজ রাজ্যসভায় প্রশ্নোত্তর পর্বে সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ANPR ব্যবস্থা কার্যকর হলে টোল প্লাজায় যানজট কমবে এবং প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার জ্বালানি সাশ্রয় সম্ভব হবে। পাশাপাশি টোল ফাঁকি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হবে এবং এর ফলে সরকারের আয় প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পাবে বলেও তিনি জানান।
নিতিন গড়করি আরও বলেন, মাল্টি-লেন ফ্রি-ফ্লো টোলিং ব্যবস্থা বর্তমানে উন্নত পর্যায়ে রয়েছে। এই ব্যবস্থায় যানবাহনকে আর টোল প্লাজায় থামতে হবে না, চলন্ত অবস্থাতেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল আদায় করা হবে। এতে করে জাতীয় সড়কে যাতায়াত আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

