জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- জৈন সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব মহাবীর জয়ন্তী উপলক্ষে মঙ্গলবার আগরতলায় ভগবান মহাবীরের ২৬২৫তম জন্মবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভক্তিভরে উদযাপিত হয়।
এই উপলক্ষে মহাবীর ধর্মীয় ট্রাস্টের উদ্যোগে আগরতলা টাউন হল সংলগ্ন জৈন মন্দিরে দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জৈন সম্প্রদায়ের বিপুল সংখ্যক ভক্ত-অনুরাগী ছাড়াও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সকাল থেকেই দেশের অন্যান্য প্রান্তের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আগরতলার জৈন মন্দিরে পূজা, অর্চনা, আরতি, ধর্মীয় সংগীত, ভজন ও কীর্তনের মাধ্যমে ভগবান মহাবীরের জন্মজয়ন্তী উদযাপন করা হয়। ভক্তিমূলক পরিবেশে মুখর হয়ে ওঠে সমগ্র মন্দির প্রাঙ্গণ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মহাবীর ধর্মীয় ট্রাস্টের চেয়ারম্যান তরুণ কুমার জৈন জানান, জৈন ধর্মে মোট ২৪ জন তীর্থঙ্কর রয়েছেন এবং ভগবান মহাবীর তাঁদের মধ্যে শেষ তথা ২৪তম তীর্থঙ্কর। ‘তীর্থঙ্কর’ শব্দের অর্থ অরিহন্ত—যিনি সর্বজ্ঞতা অর্জন করে মানবকল্যাণে সেই জ্ঞান প্রচার করেন।
তিনি বলেন, জৈন ধর্ম সহজ, সরল ও বৈজ্ঞানিক দর্শনের উপর প্রতিষ্ঠিত। এই ধর্মের অনুসারীরা নিরামিষ আহার গ্রহণ করেন, সূর্যাস্তের আগে খাদ্য গ্রহণের অভ্যাস পালন করেন এবং সিদ্ধ গরম জল পান করেন—যা স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারী বলে বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত।
তরুণ কুমার জৈন আরও উল্লেখ করেন, হাজার বছর আগেই জৈন তীর্থঙ্কররা পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব উপলব্ধি করেছিলেন। তারা বিশ্বাস করতেন গাছপালাতেও প্রাণ রয়েছে এবং শব্দদূষণসহ বিভিন্ন পরিবেশগত সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করেছিলেন। তাদের মতে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কোনো জীবজন্তু বা উদ্ভিদের ক্ষতি করা উচিত নয়।
তিনি বলেন, জৈন ধর্মে সর্বধর্ম সমন্বয় ও ভ্রাতৃত্ববোধের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়, যা ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ তত্ত্বে প্রতিফলিত। নওকার মন্ত্রের মাধ্যমে সকল অরিহন্ত, সিদ্ধ, আচার্য ও সাধুদের প্রতি প্রণাম জানিয়ে বিশ্বশান্তি ও কল্যাণ কামনা করা হয়।
এদিনের অনুষ্ঠানে জৈন সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে মানবতা, সাম্য ও সৌহার্দ্যের বার্তা তুলে ধরা হয় এবং সব ধর্মের ইতিবাচক দিককে সম্মান জানানোর আহ্বান জানানো হয়।

