ত্রিপুরায় নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে এআইডিডব্লিউএ-র আন্দোলন, ডিজিপিকে স্মারকলিপি

Date:

জনতার কলম আগরতলা প্রতিনিধি :-রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নারী ও শিশুদের ওপর লাগাতার নৃশংস অপরাধের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানাল অল ইন্ডিয়া ডেমোক্রেটিক উইমেনস অ্যাসোসিয়েশন (AIDWA)। মঙ্গলবার সংগঠনের প্রতিনিধিদল রাজ্য পুলিশের সদর দপ্তরে গিয়ে মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিজিপি)-এর হাতে একটি স্মারকলিপি জমা দেন।

স্মারকলিপিতে সংগঠনটি সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ঘটে যাওয়া একাধিক ভয়াবহ ঘটনার উল্লেখ করেছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ৯ সেপ্টেম্বর কৈলাশহর মহকুমার লাটিয়াছড়ায় এক বাবা নিজের সাত বছরের কন্যাকে হত্যা করে। এরপর ১৩ সেপ্টেম্বর পূর্ব আগরতলার সাধুতলায় গীতা সূত্রধর নামে এক মহিলাকে শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা আগুনে পুড়িয়ে রেললাইনের পাশে ফেলে রাখে বলে অভিযোগ।

১৮ সেপ্টেম্বর কৈলাশহর আদালত প্রাঙ্গণে মানসিক ভারসাম্যহীন এক মহিলাকে স্থানীয় এক যুবক ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। তার পরদিন কাকরাবানের মিরজায় এক গৃহবধূ অঞ্জলি সরকারকে গণপিটুনি দিয়ে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়। ২৯ সেপ্টেম্বর উদয়পুরের হিরাপুরে এক বৃদ্ধা মহিলাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়, মৃতদেহে ছিল নৃশংস নির্যাতনের চিহ্ন।

অক্টোবর মাসেও ভয়াবহতার রেশ অব্যাহত থাকে। ২ অক্টোবর দক্ষিণ জয়নগরের নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের পর বিষপান করানো হয়। বর্তমানে সে দিল্লির এইমসে চিকিৎসাধীন। ৫ অক্টোবর উদয়পুরের মহারাণী এলাকা থেকে ১৪ বছরের এক অনাথ কিশোরীর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠে।

১০ অক্টোবর এনসিসি থানার অন্তর্গত ইন্দ্রনগর থেকে ১৪ বছরের এক কিশোরীকে অপহরণ করা হয়, অভিযুক্তরা তার মাকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিয়ে গাড়িতে করে মেয়েটিকে তুলে নেয়। ১৩ অক্টোবর উদয়পুরের পূর্ব গোকুলপুরে এক বাড়ির মালিক সাত বছরের এক শিশুকে তার বাবা-মায়ের সামনেই ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ।

সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে ১৪ অক্টোবর, পাণিসাগর মহকুমার উত্তর পদ্মবিলে — মাত্র ১৪ মাস বয়সী এক শিশু কন্যাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে কাদার নিচে পুঁতে ফেলার অভিযোগ উঠে।

এইসব ভয়াবহ ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে এআইডিডব্লিউএ। সংগঠনের নেত্রীরা বলেন, নারী ও শিশুদের ওপর লাঞ্ছনা ও সহিংসতার ঘটনায় যে হারে বৃদ্ধি ঘটছে, তা রুখতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

 

স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়েছে!

 

সব অভিযুক্তের দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তি

 

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ দায়েরের সময় পর্যাপ্ত পুলিশি সহায়তা

 

আক্রান্তদের নিরাপত্তা ও সরকারি চিকিৎসা সহায়তা

 

নিহত নারীদের পরিবারের আর্থিক সাহায্য

 

এবং পাণিসাগরের ১৪ মাসের শিশুটির মায়ের জন্য বিশেষ ক্ষতিপূরণ

 

সংগঠনটির দাবি, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা ও দেরিতে তদন্তের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা নষ্ট হচ্ছে এবং অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তাই রাজ্য সরকারের কাছে তারা আহ্বান জানিয়েছেন, অবিলম্বে কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে অপরাধ দমন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক।

Share post:

Subscribe

Popular

More like this
Related

বাঁশ শিল্পে প্রধানমন্ত্রীর জোর, গর্বিত ত্রিপুরা: মানিক সাহা

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র...

‘মন কি বাত’ থেকে পর্যটন পর্যন্ত—ব্যস্ত দিন রাজ্যপালের বক্সানগর সফর

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র...

‘মন কি বাত’-এ ত্রিপুরার বাঁশশিল্পের প্রশংসায় মোদি

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর জনপ্রিয়...