জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- বর্ষা মৌসুমের আগে বন্যা পূর্বাভাস ও জলব্যবস্থাপনা নিয়ে কাঠমান্ডুতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছে ভারত ও নেপাল। কোসি ও গণ্ডক প্রকল্প সংক্রান্ত যৌথ কমিটির ১১তম বৈঠক ৩০ এপ্রিল শুরু হয়ে আজ পর্যন্ত চলেছে, যেখানে দুই দেশের প্রতিনিধিরা দীর্ঘদিনের প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
এই বৈঠকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণ, সেচ ব্যবস্থাপনা, ভাঙন প্রতিরোধ এবং আন্তঃসীমান্ত জল সমস্যা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। ভারতের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিহারের জলসম্পদ দপ্তরের প্রধান সচিব সন্তোষ কুমার মল্ল, আর নেপালের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেন জলসম্পদ বিভাগের মহাপরিচালক মিত্র বরাল নেকিয়া।
বৈঠকে নেপাল কোসি ও গণ্ডক প্রকল্প এলাকার খাল, ব্যারাজ অঞ্চল ও বাঁধ সংলগ্ন জায়গা থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদের বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে, যাতে প্রকল্পগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা নির্বিঘ্ন হয়। ২০২৬ সালের সম্ভাব্য বন্যার আগে ভিরপুর এলাকায় ভাঙন রোধে বালি, মাটি ও পলিমাটি ব্যবহারের বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে।
এছাড়া, কোসি প্রকল্পের অধীনে লিজ দেওয়া জমির সীমানা নির্ধারণ GPS প্রযুক্তির সাহায্যে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বন্যার সময় কোসি ব্যারাজের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে এমন কাঠ কাটাসহ অন্যান্য স্থানীয় কার্যকলাপ বন্ধ করতে নেপাল আশ্বাস দিয়েছে।
ভারত নেপালের পশ্চিম কোসি মেইন ক্যানাল ও ভাল্মিকীনগর গণ্ডক ব্যারাজ এলাকায় নিষ্কাশন ও জলাবদ্ধতার সমস্যা পরিদর্শন ও সমাধানের বিষয়ে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি, নেপাল নিয়মিতভাবে প্রকল্প এলাকায় চলমান কাজের তালিকা চেয়েছে, যা ভারত ই-মেইলের মাধ্যমে সরবরাহ করতে সম্মতি দিয়েছে। নেপালের অনুরোধে স্যাটেলাইট চিত্রও সরবরাহ করবে ভারত।
