জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে কার্যকর থাকা নাজুক যুদ্ধবিরতিও ক্রমশ চাপের মুখে পড়ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কূটনৈতিক সম্পর্কেও টানাপোড়েন বাড়ছে, ফলে পুরো অঞ্চলে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে।
লেবাননের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নাবাতিয়েহ জেলায় একাধিক ইসরায়েলি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে কফর দাজ্জালের কাছে যানবাহন লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা এবং কফর দাজ্জাল ও আদচিট সংযোগকারী সড়কেও আঘাত হানার অভিযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বেসামরিক হতাহতের খবরও পাওয়া গেছে, যার মধ্যে উদ্ধারকর্মীরাও রয়েছেন।
ইসরায়েল জানিয়েছে, তাদের এই হামলার লক্ষ্য হলো ঘোষিত বাফার জোনের বাইরে সক্রিয় হেজবোল্লাহর ঘাঁটিগুলোকে নিষ্ক্রিয় করা। অন্যদিকে হেজবোল্লাহ সীমিত রকেট ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে পাল্টা জবাব দিয়েছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে, যা সীমান্ত পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা এবং বৃহত্তর নিরাপত্তা আলোচনার পথ প্রশস্ত করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল।
অন্যদিকে বৃহত্তর আঞ্চলিক পরিস্থিতিও উত্তেজনাপূর্ণ রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সংঘাতে জড়ায়নি, তবে হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানের সঙ্গে বিরোধ ক্রমশ বাড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের সাম্প্রতিক প্রস্তাবে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, ইরান এমন শর্ত দিচ্ছে যা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন, তড়িঘড়ি করে সংঘাতের অবসান ঘটালে উত্তেজনা ফের বাড়তে পারে।
এদিকে ইরান তাদের অবস্থান আরও কঠোর করেছে এবং হরমুজ প্রণালীকে অচলনীয় বলে উল্লেখ করেছে। ওয়াশিংটন ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছে, এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের জন্য ইরানকে ফি প্রদান করলে জাহাজগুলো নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে। পাশাপাশি ইরানের তেল বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত চীনা সংস্থা ও সম্পদের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞাও ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এই উত্তেজনার প্রভাব ইরাক ও সিরিয়াতেও পড়ছে, যেখানে প্রক্সি কার্যকলাপ ও সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে।
