ভারত-নিউজিল্যান্ড এফটিএ ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’: মোদি, নতুন দিগন্তের ইঙ্গিত লাক্সনের

Date:

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সোমবার ভারত-নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ)-কে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এই চুক্তি দুই দেশের উন্নয়ন অংশীদারিত্বে অভূতপূর্ব গতি সঞ্চার করবে।

এক্স (সাবেক টুইটার)-এ এক পোস্টে মোদি জানান, এই চুক্তি দুই দেশের মধ্যে গভীর আস্থা, অভিন্ন মূল্যবোধ ও যৌথ উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। তিনি উল্লেখ করেন, কৃষক, যুবসমাজ, নারী, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME), কারিগর, স্টার্টআপ, ছাত্রছাত্রী এবং উদ্ভাবকদের জন্য এই চুক্তি নতুন সুযোগ তৈরি করবে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমন্বয় আরও জোরদার করবে।

অর্থনৈতিক দিক তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, নিউজিল্যান্ডের পক্ষ থেকে ভারতে ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, যা কৃষি, উৎপাদন, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াবে। তিনি বলেন, এই চুক্তি ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগকে শক্তিশালী করবে এবং বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলে দেশের সংযুক্তিকে আরও মজবুত করবে।

চুক্তির আওতায় দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রতিভা বিনিময়ের বিষয়েও জোর দেন মোদি। তিনি জানান, এর ফলে উদীয়মান খাতে ভারতীয় পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স’ এবং যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি ও গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও, আয়ুষ, যোগ ও জৈব পণ্যের মতো ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানব্যবস্থাকে বিশ্ববাজারে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই এফটিএ শক্তিশালী সরবরাহ শৃঙ্খলা গড়ে তুলতে সাহায্য করবে এবং প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে পণ্য ও পরিষেবা উৎপাদনের সুযোগ বাড়াবে।

অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন এই চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করে বলেন, এটি বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে বড় সুযোগের দরজা খুলে দেবে। তিনি জানান, এই এফটিএর মাধ্যমে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতিগুলির একটি—ভারতের বাজারে সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হবে।

লাক্সন আরও বলেন, চুক্তির ফলে শুরু থেকেই ভারতীয় রপ্তানিকারকরা নিউজিল্যান্ডের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবেন এবং ভারতীয় গ্রাহকরাও নিউজিল্যান্ডের উচ্চমানের পণ্যের সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। কৃষি প্রযুক্তি ও খাদ্য উৎপাদনে নিউজিল্যান্ডের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে সহযোগিতা আরও গভীর হবে বলেও তিনি জানান।

বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তার সময়ে এই চুক্তি নিয়মভিত্তিক ও স্থিতিশীল বাণিজ্যের প্রতি দুই দেশের অঙ্গীকারকে তুলে ধরে বলেও মন্তব্য করেন লাক্সন। পাশাপাশি, দুই দেশের সম্পর্ক মজবুত করতে ভারতীয় প্রবাসীদের ভূমিকাকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

উভয় নেতা এই চুক্তিকে শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং ভারত-নিউজিল্যান্ড সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন, যেখানে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উদ্ভাবন ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও গভীর হবে।

Share post:

Subscribe

Popular

More like this
Related

কুলতলীতে বিজেপির শক্তি প্রদর্শন, ‘ভয়মুক্ত বাংলা’ গড়ার বার্তা

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- রাজ্যে ‘ভয়মুক্ত বাংলা’ গড়ার অঙ্গীকার...

সিকিমে মোদির দুই দিনের সফর শুরু, আজ রোড শোতে ভিড় উপচে পড়ল

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজ সন্ধ্যায়...

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার প্রচার শেষ, শেষ মুহূর্তে জোরকদমে প্রচার সব দলের

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় তথা...

বাংলাদেশে ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক আজ ঘোষণা...