জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :-পশ্চিম এশিয়ায় ইসরায়েল ও হেজবোল্লার মধ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝেই কূটনৈতিক তৎপরতা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির মধ্যেও সংঘর্ষ থামার লক্ষণ নেই, বরং পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল আকার নিচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের জন্য পাকিস্তানের ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংঘাত নিরসন নিয়ে তাদের অবস্থান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে না জানিয়ে পাকিস্তানের মাধ্যমেই তুলে ধরা হবে। একইসঙ্গে ইরান স্পষ্ট করেছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনও সরাসরি বৈঠকের পরিকল্পনা নেই।
তবে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তাদের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার পাকিস্তানে গিয়ে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। হোয়াইট হাউসের দাবি, এই সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব নাকি ইরানের পক্ষ থেকেই এসেছে। যদিও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই সফরে যাচ্ছেন না, তবে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন।
মাঠের পরিস্থিতি কিন্তু এখনও উত্তপ্ত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও তা কার্যত ভেঙে পড়ার মুখে। হেজবোল্লার সাংসদ আলি ফাইয়াদ এই যুদ্ধবিরতিকে ‘অর্থহীন’ বলে মন্তব্য করেছেন, কারণ ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, যে কোনও হুমকির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা তাদের রয়েছে। তিনি হেজবোল্লার বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন।
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বিমান হামলায় অন্তত ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পাল্টা জবাবে হেজবোল্লাও রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়ে ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতির আড়ালেও ওয়েস্ট এশিয়ায় সংঘাত থামার কোনও ইঙ্গিত নেই, বরং কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি সামরিক উত্তেজনাও সমান তালে বাড়ছে।
