জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- আম আদমি পার্টি (এএপি) ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরেই দিল্লির রাজ্যসভার সাংসদ স্বাতী মালিওয়াল দলের প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন।
বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর মালিওয়াল স্পষ্ট করে জানান, তিনি কোনও চাপ বা বাধ্যবাধকতায় নয়, বরং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিশ্বাস রেখেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি কোনও ভয়ে বা চাপে বিজেপিতে যোগ দিইনি। যারা গঠনমূলক রাজনীতি করতে চান, তাঁদের সবাইকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”
এএপি ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মালিওয়াল দাবি করেন, দীর্ঘদিন কেজরিওয়ালের সঙ্গে কাজ করার পরও তিনি দলের ভিতরে অপমান ও অত্যাচারের শিকার হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, “২০০৬ সাল থেকে আমি কেজরিওয়ালের সঙ্গে কাজ করেছি। কিন্তু আমার নিজের বাড়িতে একজন গুন্ডা দিয়ে আমাকে মারধর করানো হয়েছিল। আমি যখন এর বিরুদ্ধে এফআইআর করি, তখন তা তুলে নিতে চাপ দেওয়া হয়।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, গত দুই বছর তাঁকে সংসদে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি, যা তাঁর মতে অত্যন্ত লজ্জাজনক। কেজরিওয়ালকে ‘মহিলা-বিরোধী’ আখ্যা দিয়ে মালিওয়াল বলেন, “দলের বর্তমান অবস্থার জন্য বাইরে কেউ দায়ী নয়, কেজরিওয়াল নিজেই দায়ী।”
দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে এএপির পরাজয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, তাঁর ওপর হওয়া হামলার ঘটনায় জনরোষ তৈরি হয়েছিল, যার ফলেই দল হেরে যায়।
পাঞ্জাব নিয়েও কেজরিওয়ালকে কটাক্ষ করেন মালিওয়াল। তাঁর অভিযোগ, “পাঞ্জাবকে ব্যক্তিগত এটিএম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সেখানে বালু পাচার ও মাদক সমস্যা চরমে পৌঁছেছে। যারা এর বিরুদ্ধে কথা বলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে।”
কেজরিওয়ালের জীবনযাত্রা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। মালিওয়াল বলেন, “একসময় সাধারণ জীবনযাপন করতেন কেজরিওয়াল, কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর তিনি শত কোটি টাকার বাড়ি তৈরি করেছেন, বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন। যিনি একসময় ভিআইপি সংস্কৃতির বিরোধিতা করতেন, তাঁরই এখন দীর্ঘ কনভয়।”
এছাড়াও, তিনি কেজরিওয়ালকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলেও আখ্যা দেন এবং বলেন, “নিজের নীতির বিরুদ্ধে কাজ করাই আসল বিশ্বাসঘাতকতা, আর এর চেয়ে বড় বিশ্বাসঘাতক আর কেউ নেই।”
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বের প্রশংসা করে মালিওয়াল বলেন, দেশের উন্নয়নে তাঁদের নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ঐতিহাসিক।
স্বাতী মালিওয়ালের এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এএপি এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগগুলির আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি, তবে রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এই ঘটনাকে ঘিরে দিল্লি ও জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে সংঘাতের আবহ তৈরি হতে পারে।
