জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। নির্বাচনী প্রচারে মোদি অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে “অ্যান্টি-ন্যাশনাল” স্লোগান লেখা হচ্ছে এবং সেখানে শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন, একসময় জাতীয়তাবাদের আদর্শে গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠান বর্তমানে বিশৃঙ্খলার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ও বামপন্থী নেতারা পাল্টা আক্রমণে নামেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ছাত্রদের মতপ্রকাশের অধিকার গণতন্ত্রের অঙ্গ। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্র সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে এই প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছে।
এদিকে সিপিআই(এম) নেতা এবং যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য আরও কড়া ভাষায় প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করেন। তিনি বলেন,
“আরএসএস পরিচালিত সরকারের এ ধরনের বক্তব্য নতুন নয়। তারা ‘গো-সংস্কৃতি’ তুলে ধরতেই বেশি আগ্রহী। গোমূত্র ও গোবর নিয়ে গবেষণায় অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে, অথচ বিজ্ঞান বা নিউক্লিয়ার গবেষণায় পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশের একাধিক নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ), বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় (বিএইচইউ) এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়—ক্রমাগতভাবে আক্রমণের মুখে পড়েছে এবং গবেষণার পরিবেশ সংকুচিত করা হয়েছে। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গেও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে রাজনৈতিকভাবে টার্গেট করা হচ্ছে।
বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য আরও বলেন, বিজেপি এবং তৃণমূল—দুই রাজনৈতিক দলই বিভিন্ন সময়ে নিজেদের স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে ব্যবহার করেছে, যার ফলে শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পুরো ঘটনাকে ঘিরে শিক্ষাঙ্গন, ছাত্ররাজনীতি এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনের আগে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে, যেখানে শিক্ষা ও রাজনীতির সংঘাত স্পষ্টভাবে সামনে আসছে।
