জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- পশ্চিমবঙ্গে চলমান নির্বাচনের মধ্যেই রেশন বিতরণ (পিডিএস) দুর্নীতি মামলায় বড় পদক্ষেপ নিল প্রবर्तन নির্দেশালয় (ইডি)। শনিবার কলকাতা, বর্ধমান এবং উত্তর ২৪ পরগনার হাবরায় সরবরাহকারী ও রপ্তানিকারকদের সঙ্গে যুক্ত মোট ৯টি স্থানে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়।
ইডির কলকাতা জোনাল দফতরের দল মনি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০০২ (পিএমএলএ)-এর আওতায় এই অভিযান চালায়। যেসব জায়গায় তল্লাশি হয়েছে, সেগুলি মূলত অভিযুক্ত নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা এবং তার সহযোগীদের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে। হাবরায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতেও অভিযান চালানো হয়।
এই মামলায় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের দায়ের করা এফআইআরের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে ইডি। ২০২০ সালের ২৩ অক্টোবর বশিরহাট থানায় এই এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল, যা ঘোজাডাঙা এলসিএস-এর শুল্ক দপ্তরের উপকমিশনারের অভিযোগের ভিত্তিতে নথিভুক্ত হয়। অভিযোগে বলা হয়, জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ পিডিএস গমের বড়সড় দুর্নীতি হয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্তরা সুপরিকল্পিতভাবে পিডিএসের গম সরিয়ে নেওয়ার চক্র গড়ে তুলেছিল। সরবরাহকারী, লাইসেন্সপ্রাপ্ত ডিস্ট্রিবিউটর, ডিলার এবং দালালদের যোগসাজশে কম দামে এই গম অবৈধভাবে সংগ্রহ করা হত। পরে বিপুল পরিমাণ গম সরবরাহ ব্যবস্থার বাইরে সরিয়ে বিভিন্ন স্থানে মজুত করা হয়।
অভিযোগ, গমের আসল পরিচয় গোপন করতে এফসিআই ও রাজ্য সরকারের চিহ্নযুক্ত বস্তা বদলে বা উল্টে দিয়ে নতুন করে গম ভরা হত। এর ফলে পিডিএসের গমকে বৈধ পণ্য হিসেবে দেখিয়ে খোলা বাজারে বিক্রি করা হত।
এই পুরো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযুক্তরা অবৈধভাবে বিপুল মুনাফা অর্জন করে এবং ‘অপরাধলব্ধ সম্পদ’ তৈরি করেছে বলে ইডির দাবি।
