জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- ত্রিপুরার দুর্গম জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় সৌর মাইক্রোগ্রিড এখন আশা ও উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। খোয়াই জেলার মুঙ্গিয়াকামি আরডি ব্লকের কর্ণারাম পাড়ায় এই পরিবর্তনের স্পষ্ট চিত্র উঠে এসেছে, যা আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন।
রবিবার ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠান শোনার পর মোহনপুর মণ্ডলের অভিচরণ এলাকায় সাধারণ মানুষ ও দলীয় কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে এই তথ্য জানান বিদ্যুৎমন্ত্রী রতন লাল নাথ।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ‘প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর মুফত বিদ্যুৎ যোজনা’-র সুফল পৌঁছাচ্ছে। ত্রিপুরার রিয়াং জনজাতি অধ্যুষিত বহু গ্রামে আগে বিদ্যুতের সমস্যা ছিল, কিন্তু এখন সৌর মিনি-গ্রিডের মাধ্যমে ঘরে ঘরে আলো পৌঁছেছে। ফলে শিশুরা এখন সন্ধ্যার পরেও পড়াশোনা করতে পারছে, মোবাইল চার্জ করতে পারছে এবং গ্রামগুলির সামাজিক জীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
পরবর্তীতে বিদ্যুৎমন্ত্রী জানান, রাজ্যের পাহাড়ি এলাকায় সৌর মিনি-গ্রিডের মাধ্যমে ৩৪৭টি এলাকায় মোট ১২,১০৩টি পরিবারকে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ পরিষেবা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর’ প্রকল্পের অধীনে ২,৭৫৩টি পরিবার সোলার প্যানেল স্থাপন করেছে। এছাড়া ৭,৯৯১টি কৃষক পরিবার সোলার পাম্প পেয়েছে, যার ফলে প্রায় ৪০,০০০ কানি জমিতে সেচের সুবিধা হয়েছে। ‘পিএম ডিভাইন’ প্রকল্পে ২৪৭টি এলাকায় ৯,৭২৫টি বাড়িতে বিদ্যুৎ পৌঁছেছে এবং ‘পিএম জনমান’ প্রকল্পে ৩০টি এলাকায় ১,৭০৩টি পরিবার উপকৃত হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, আজ ত্রিপুরায় সূর্যের আলো শুধু ঘর আলোকিত করছে না, মানুষের স্বপ্নকেও আলোকিত করছে। ‘মন কি বাত’-এ এই উদ্যোগের প্রশংসা করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, অন্ধকার থেকে আলোর এই যাত্রা শুধু বিদ্যুৎ সংযোগ নয়, আত্মনির্ভরতার নতুন সূচনা। তিনি আরও যোগ করেন, “ত্রিপুরা এখন সৌরশক্তির মাধ্যমে এক নতুন ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।”

