জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :-উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি রাজ্যস্তরের ‘রেভিনিউ লোক আদালত’-এর উদ্বোধন করলেন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে। এ উপলক্ষে তিনি জানান, সাধারণ মানুষের জন্য বিচারব্যবস্থাকে আরও সহজ, সুলভ ও কার্যকর করা এবং দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই রাজ্য সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এই উদ্যোগকে তিনি বিচারপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস এবং সবকা প্রয়াস’-এর ভাবনাকেই প্রতিফলিত করে। তিনি আরও বলেন, সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুফল যেন সমাজের শেষ প্রান্তের মানুষের কাছে দ্রুত ও সহজে পৌঁছায়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সর্বদা জোর দিয়ে আসছেন।
তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা রাজস্ব সংক্রান্ত মামলাগুলির দ্রুত ও কার্যকর নিষ্পত্তির লক্ষ্যে এই ‘রেভিনিউ লোক আদালত’ আয়োজন করা হয়েছে। এই ধরনের মামলা শুধুমাত্র প্রশাসনিক বিষয় নয়, বরং তা কৃষকদের জমি, পরিবারের জীবিকা এবং মানুষের সম্মানের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।
রাজ্যে বর্তমানে বিভিন্ন স্তরে—রাজ্য পর্যায়ে রেভিনিউ কাউন্সিল, বিভাগীয় পর্যায়ে কমিশনার আদালত, জেলা পর্যায়ে কালেক্টর আদালত এবং তহসিল পর্যায়ে এসডিএম, তহসিলদার ও নায়েব তহসিলদারদের আদালত মিলিয়ে ৪০০-র বেশি রাজস্ব আদালত কার্যকর রয়েছে। এসব আদালতে বর্তমানে ৫০ হাজারেরও বেশি মামলা বিচারাধীন।
এই সমস্যার সমাধানে রাজ্য সরকার ‘সরলীকরণ, সমাধান, নিষ্পত্তি ও সন্তুষ্টি’—এই চারটি মূলনীতির ভিত্তিতে ‘রেভিনিউ লোক আদালত’ চালু করেছে।
‘দোরগোড়ায় বিচার’ ধারণার আওতায় রাজ্যের ১৩টি জেলার ২১০টি স্থানে একযোগে এই লোক আদালত অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে প্রায় ৬,৯৩৩টি মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। জমি সংক্রান্ত বিরোধের পাশাপাশি আবগারি, খাদ্য, স্ট্যাম্প ডিউটি, সারফেসি আইন, গুণ্ডা আইন, সিআরপিসি, বিদ্যুৎ আইন, সিনিয়র সিটিজেন আইন এবং ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন সংক্রান্ত মামলাও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, ‘মিনিমাম গভর্নমেন্ট, ম্যাক্সিমাম গভর্ন্যান্স’-এর লক্ষ্য নিয়ে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া আরও সহজ ও স্বচ্ছ করতে কাজ চলছে। ‘রেভিনিউ কোর্ট কেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ পোর্টালের মাধ্যমে রাজস্ব আদালতের কার্যক্রম ডিজিটাল করা হয়েছে, ফলে সাধারণ মানুষ ঘরে বসেই মামলা দায়ের ও তার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।
তিনি নির্দেশ দেন, কোনও আপত্তিহীন উত্তরাধিকার সংক্রান্ত ক্ষেত্রে জমির নামজারি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। এমনকি মালিকের মৃত্যুর পর তেরো দিনের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া শেষ করে পরিবারের হাতে হালনাগাদ খতিয়ান তুলে দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। পাশাপাশি জমির পরিমাপ ও দখল সংক্রান্ত বিরোধ এক মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেন।
লোক আদালতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে তিনি স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার ওপর জোর দিয়ে বলেন, সব পক্ষের বক্তব্য শুনে সংবেদনশীলতার সঙ্গে বিচার প্রদান করা হয়। প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, ডিজিটাল ইন্ডিয়া উদ্যোগের ফলে নাগরিক পরিষেবা আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
ভার্চুয়াল বৈঠকে মুখ্যসচিব আনন্দ বর্ধন জানান, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী রাজস্ব সংক্রান্ত মামলাগুলি দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জমি সংক্রান্ত মামলাগুলির জট কাটানো হবে। তিনি সমস্ত জেলা শাসকদের এক মাসের মধ্যে বকেয়া মামলাগুলি নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। এদিনের বৈঠকে রাজস্ব সচিব রঞ্জনা রাজগুরুও উপস্থিত ছিলেন।

