জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা মঙ্গলবার গুরুগ্রামে নির্যাতিত ১৯ বছর বয়সী ত্রিপুরার এক ছাত্রীর পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন। এদিন মুখ্যমন্ত্রী নির্যাতিতার বাবা-মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করেন এবং রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সর্বতোভাবে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি ত্রিপুরা ভবনের স্পেশাল চিফ রেসিডেন্ট কমিশনারকে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি নির্যাতিতার সম্পূর্ণ চিকিৎসা ব্যয় রাজ্য সরকার বহন করবে বলেও ঘোষণা করা হয়েছে।
এছাড়া মুখ্যমন্ত্রী হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নায়াব সিং সাইনির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। গুরুগ্রাম কাণ্ডে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা ও ন্যায়বিচারের আশ্বাস দেন সাইনি। ত্রিপুরার সমাজকল্যাণমন্ত্রী টিংকু রায়ও হাসপাতালে গিয়ে নির্যাতিতার শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করেন এবং পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দেন।
ঘটনা প্রকাশ্যে আসে গত মাসের তৃতীয় সপ্তাহে। গুরুগ্রামে বায়োটেকনোলজি নিয়ে পড়াশোনা করতে যাওয়া ওই ছাত্রী তাঁর লিভ-ইন সঙ্গীর দ্বারা নৃশংস নির্যাতনের শিকার হন বলে অভিযোগ। অভিযুক্ত শিবম (১৯)-এর সঙ্গে অনলাইনে পরিচয়ের পর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে একটি ঘরে তিন দিন আটকে রেখে মারধর ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে পরিবারের দাবি।
মেয়ের কাছ থেকে বিপদসংকেত পেয়ে মা গুরুগ্রাম পুলিশের দ্বারস্থ হন। পুলিশ দ্রুত উদ্ধার করে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি দিল্লির নরেলা এলাকা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। গুরুগ্রামের বাদশাহপুর থানায় দায়ের হওয়া এফআইআরে প্রথমে মারধরের অভিযোগ যুক্ত হলেও পরে ধর্ষণের ধারাও সংযোজন করা হয়েছে। আদালত অভিযুক্তকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
প্রথমে তাকে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সাইন্স-এ ভর্তি করা হলেও বর্তমানে দিল্লির সাফদারজুঙ হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে। পরিবারের দাবি, অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হোক।
এই ঘটনায় সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চল জুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্য সরকার জানিয়েছে, নির্যাতিতার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সব রকম আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।


Leave feedback about this