জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- বৃহৎ পরিসরে গাঁজা পাচার ও অর্থপাচারের অভিযোগে বড় পদক্ষেপ নিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ইডির আগরতলা সাব-জোনাল অফিস প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (পিএমএলএ), ২০০২-এর আওতায় বিষু কুমার ত্রিপুরা, কামিনী দেববর্মা এবং বিকাশ দেববর্মার প্রায় ২.২১ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি অস্থায়ীভাবে জব্দ (প্রভিশনাল অ্যাটাচ) করেছে।
ইডি সূত্রে জানা যায়, ত্রিপুরা পুলিশে দায়ের হওয়া একাধিক এফআইআরের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয়। মেলাঘর থানায় ২৪৩ কেজি এবং বিশালগড় থানায় ৩,৩৯০ কেজি শুকনো গাঁজা উদ্ধার সংক্রান্ত মামলার সূত্র ধরেই পিএমএলএ-র অধীনে ইডি পৃথক মামলা রুজু করে। পরবর্তীতে বিষু কুমার ত্রিপুরার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আরও ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার হয়, যার ভিত্তিতে মেলাঘর থানায় আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়।
তদন্তে ইডি জানতে পেরেছে, বিষু কুমার ত্রিপুরা ও কামিনী দেববর্মা সংগঠিতভাবে গাঁজা পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল। সিপাহীজলা জেলা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে তা পশ্চিমবঙ্গ, বিহার-সহ বিভিন্ন রাজ্যে পাচার করা হতো। এই অবৈধ ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থ হাওলা বা হুন্ডি মারফত নগদে লেনদেন করে নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করা হতো।
পরে সেই অর্থ ব্যবহার করে জমি-বাড়ি, যানবাহন, ইটভাটা ব্যবসা এবং কলকাতায় একটি ফ্ল্যাট কেনা হয়েছে বলে অভিযোগ। এছাড়াও ভুয়ো আয়-ব্যয়ের হিসাবপত্র তৈরি করে কালো টাকাকে বৈধ আয়ের রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও ইডি জানিয়েছে।
এই চক্রে সহযোগী হিসেবে বিকাশ দেববর্মা নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে দিয়েছিলেন, যার মাধ্যমে অপরাধমূলক অর্থ লেনদেন ও পাচারে সহায়তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনায় তদন্ত এখনও চলছে বলে জানিয়েছে ইডি।

