জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- অসমের শিলচর থেকে মোট ২৩ হাজার ৫৫০ কোটি টাকার একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার কাছাড় জেলার শিলচরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব প্রকল্পের সূচনা করেন।
এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শিলচরের আম্বিকাপুর এলাকায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ভূমিপূজন সম্পন্ন করেন। এর মধ্যে রয়েছে শিলচর হাই-স্পিড করিডর, শিলচর টাউন ফ্লাইওভার এবং করিমগঞ্জ জেলার পাথারকান্দিতে একটি কৃষি কলেজ স্থাপন। শিলচর হাই-স্পিড করিডর প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা, শিলচর টাউন ফ্লাইওভারের জন্য প্রায় ৫৬৫ কোটি টাকা এবং পাথারকান্দি কৃষি কলেজের জন্য প্রায় ১২২ কোটি টাকা ব্যয় হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ অসমের বারাক ভ্যালি ধীরে ধীরে ভারতের সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু হয়ে উঠছে। তিনি অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ধরে কংগ্রেস শাসনে এই অঞ্চলের উন্নয়ন উপেক্ষিত ছিল।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে উত্তর-পূর্বাঞ্চল ভারতের Act East Policy-র নেতৃত্ব দিচ্ছে। শিলচর-শিলং হাই-স্পিড করিডর নির্মাণকে তিনি একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন। প্রায় ১৬৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই করিডরটি উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথম নিয়ন্ত্রিত প্রবেশাধিকারযুক্ত হাই-স্পিড এক্সপ্রেসওয়ে হবে। এর ফলে গুয়াহাটি থেকে শিলচর যাওয়ার দূরত্ব ও সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। বর্তমানে যেখানে প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টা সময় লাগে, সেখানে ভবিষ্যতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টায় যাতায়াত সম্ভব হবে।
এছাড়া শিলচরের ট্রাঙ্ক রোডের ক্যাপিটাল পয়েন্ট থেকে রঙ্গিরখাড়ি পয়েন্ট পর্যন্ত জাতীয় সড়ক-৩০৬ এর উপর নির্মিত এলিভেটেড করিডর শহরের যানজট কমাতে সহায়ক হবে। এর ফলে ত্রিপুরা, মিজোরাম এবং মনিপুর এর সঙ্গে যোগাযোগ আরও উন্নত হবে।
প্রধানমন্ত্রী পাথারকান্দিতে নতুন কৃষি কলেজ স্থাপনের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেন। এই প্রতিষ্ঠানটি অসমে কৃষি শিক্ষা ও গবেষণাকে শক্তিশালী করবে এবং বরাক উপত্যকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত কৃষি শিক্ষার সুযোগ তৈরি করবে।
বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের নাগরিকদের উপর এর প্রভাব যাতে কম পড়ে, সে জন্য কেন্দ্র সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব থেকে দেশের মানুষকে যতটা সম্ভব সুরক্ষিত রাখা।

