জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- আগরতলায় রাজভবনে বুধবার বিকেলে এক তাৎপর্যপূর্ণ ডেপুটেশন কর্মসূচিতে রাজ্যের শাসক জোটের দুই বিধায়ক— রাম প্রাসাদ পাল ও রঞ্জিত দেববর্মা এর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ স্তরের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানালেন একদল সাংবাদিক। তাঁরা রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে লিখিত স্মারকলিপি পেশ করেন।
সাংবাদিকদের প্রতিনিধিদলে ছিলেন শানিত দেবরায়, সেবক ভট্টাচার্য, প্রণব সরকার, ড. বিশ্বেন্দু ভট্টাচার্য, দিবাকর দেবনাথ ও অভিজিৎ ঘোষসহ মোট ২১ জন। বৈঠকে তাঁরা অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে দুই বিধায়কের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বিধায়ক রাম প্রসাদ পাল ‘আজকের ফরিয়াদ’ পত্রিকা ও নিউজ নাও চ্যানেলের সম্পাদক শানিত দেবরায়ের বাড়ির সামনে সমাবেশ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। অভিযোগ, ওই বিক্ষোভে তাঁর ছবিতে লাল কালি দিয়ে ‘ক্রস’ চিহ্ন এঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে নানা ভিত্তিহীন মন্তব্য করা হয়। এ ঘটনায় শানিত দেবরায় এডি নগর থানায় অভিযোগ দায়ের করলেও এখনও পর্যন্ত গ্রেফতারি হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। সাংবাদিকদের মতে, এতে রাজ্যের সংবাদমহলে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, তিপ্রামথার বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মার বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। ‘হেডলাইন্স ত্রিপুরা’ চ্যানেলে কিছু প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকে চ্যানেলের সম্পাদক প্রণব সরকারকে সামাজিক মাধ্যমে কটূক্তি, মানহানিকর মন্তব্য ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। প্রণব সরকার এ বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে একাধিক মামলা দায়ের করলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
সাংবাদিকদের বক্তব্য, এ ধরনের ঘটনা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। তাই নিরপেক্ষ ও উচ্চস্তরের তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু সাংবাদিকদের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন বলে প্রতিনিধিদল জানিয়েছে।

