জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন ও বিদেশ নীতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ‘নো কিংস’ ব্যানারে একত্রিত হয়ে হাজার হাজার মানুষ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদে সামিল হন।
আয়োজকদের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত জাতীয় আন্দোলনের অংশ, যার আওতায় গোটা দেশে ৩ হাজারেরও বেশি কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিনেসোটার সেন্ট পলে স্টেট ক্যাপিটলে অনুষ্ঠিত প্রধান সমাবেশে প্রায় ২ লক্ষের বেশি মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
প্রতিবাদকারীরা রাস্তায় মিছিল বের করে, স্লোগান দেয় এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে পোস্টার ও ব্যানার প্রদর্শন করে। বিশেষ করে কঠোর অভিবাসন নীতি এবং ইরানকে ঘিরে মার্কিন অবস্থানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগো এবং সান ফ্রান্সিসকোসহ বড় শহরগুলিতেও ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। বহু জায়গায় প্রতিবাদকারীরা প্রধান সড়কে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে কিংবা গুরুত্বপূর্ণ চত্বরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান।
সেন্ট পলের সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন একাধিক বিশিষ্ট রাজনীতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। গভর্নর টিম ওয়ালজ সমাবেশে ভাষণ দেন এবং সংগীতশিল্পী ব্রুস স্প্রিংস্টিন একটি গান পরিবেশন করেন। এছাড়া সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স, ক্রিস্টিন গিলিব্র্যান্ড, জোন বেজ, ম্যাগি রজার্স ও জেন ফন্ডার মতো পরিচিত মুখও বিক্ষোভে অংশ নেন।
প্রতিবাদকারীরা জানান, এই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা করা। হিউস্টনে বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের একটি বড় প্রতিকৃতি নিয়ে মিছিল করেন, যা গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়।
প্রতিনিধি জন লারসন বলেন, “আমেরিকায় কোনও রাজা নেই”—এই বার্তা দিতেই তারা রাস্তায় নেমেছেন। অন্যদিকে সিনেটর গিলিব্র্যান্ড বলেন, সরকারের উচিত সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে মনোযোগ দেওয়া, ব্যক্তিগত স্বার্থে ক্ষমতার ব্যবহার নয়।
সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সও বলেন, “২০২৬ সালে আমাদের বার্তা স্পষ্ট—আর কোনও রাজা নয়। আমরা এই দেশকে স্বৈরতন্ত্রের দিকে যেতে দেব না।”
এই বিক্ষোভে মার্কিন রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

