জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- পশ্চিম এশিয়ায় বাড়তে থাকা উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচা তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে দেশে প্রিমিয়াম পেট্রোলের দামে বড়সড় বৃদ্ধি করা হয়েছে। শুক্রবার থেকে এই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে তেল বিপণন সংস্থাগুলি।
সরকারি তেল সংস্থা Hindustan Petroleum Corporation Limited (এইচপিসিএল) এবং Indian Oil Corporation Limited (আইওসি) সহ অন্যান্য কোম্পানিগুলি প্রিমিয়াম পেট্রোলের দামে প্রতি লিটারে প্রায় ২.০৯ টাকা থেকে ২.৩৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে। এর ফলে ‘পাওয়ার পেট্রোল’ এবং ‘এক্সপি৯৫’-এর মতো ব্র্যান্ডেড জ্বালানির দাম বেড়ে প্রায় ১১১.৬৮ টাকা থেকে ১১৩.৭৭ টাকা প্রতি লিটার হয়েছে।
তবে স্বস্তির বিষয়, সাধারণ পেট্রোল ও ডিজেলের দামে আপাতত কোনও পরিবর্তন করা হয়নি, ফলে সাধারণ গাড়ি চালকদের উপর সরাসরি চাপ কিছুটা কমই রয়েছে।
এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে সেইসব গ্রাহকদের উপর, যারা হাই-অকটেন বা প্রিমিয়াম পেট্রোল ব্যবহার করেন। উন্নত ইঞ্জিন পারফরম্যান্স, মসৃণ ড্রাইভিং ও ভালো মাইলেজের জন্য পরিচিত এই জ্বালানির দাম বাড়ায় গাড়ি ও বাইক মালিকদের অতিরিক্ত খরচের বোঝা বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে মেট্রো শহর ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন যানবাহনের ব্যবহারকারীরা বেশি প্রভাবিত হবেন।
যদিও এই মূল্যবৃদ্ধির পিছনে সরকার বা তেল সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক কারণ জানানো হয়নি, বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচা তেলের দামের অস্থিরতা এবং বাড়তি পরিবহণ খরচই এর মূল কারণ।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ১৯ মার্চ আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে ৪ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি দেখা গেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ১১১.৭৮ ডলারে পৌঁছেছে, অন্যদিকে মার্কিন West Texas Intermediate (ডব্লিউটিআই)-এর দামও প্রায় ৯৯.৫৭ ডলার প্রতি ব্যারেলে উঠে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দামের উল্লম্ফনের পেছনে রয়েছে ইসরায়েল ও ইরান এর মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা। ইরানের সাউথ পার্স গ্যাস ক্ষেত্রের উপর হামলা এবং তার পাল্টা হিসেবে কাতারের রাস লাফান শিল্পনগরীকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
ভারতের মতো দেশ, যেখানে প্রায় ৯০ শতাংশ কাঁচা তেল আমদানির উপর নির্ভরশীল, সেখানে এই ধরনের আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ে। আপাতত সাধারণ জ্বালানির দাম স্থির থাকলেও প্রিমিয়াম পেট্রোলের দাম বৃদ্ধি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আন্তর্জাতিক বাজারের চাপ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা অব্যাহত থাকে এবং কাঁচা তেলের দাম উচ্চ অবস্থায় থাকে, তবে ভবিষ্যতে দেশীয় জ্বালানির দামেও আরও পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

