Site icon janatar kalam

জলাতঙ্ক প্রতিরোধে মাঠে নামছে রাজ্য, বেওয়ারিস প্রাণী নিয়ে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- জলাতঙ্ক রোগ ও নানা দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক শিক্ষিকা সহ জনসাধারণকে আরও বেশি করে সচেতন করতে হবে। বেওয়ারিস কুকুর ও অন্যান্য প্রাণীদের আচার আচরণ এবং তাদের মাধ্যমে বিভিন্ন রোগ বিস্তার প্রতিরোধ করার জন্য প্রতিষেধক ও প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কেও ছাত্রছাত্রী এবং জনগণকে সচেতন করে তুলতে হবে। রাজ্য সরকার বেওয়ারিস প্রাণীদের উদ্ধার করে উপযুক্ত শেল্টার হাউজে রাখার ব্যবস্থা করছে। এসব বেওয়ারিস প্রাণীদের জন্য যেন কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে এ বিষয়ে রাজ্য সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

আজ সচিবালয়ের কনফারেন্স হলে প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের উদ্যোগে বেওয়ারিস কুকুর ও অন্যান্য বেওয়ারিস প্রাণীদের ব্যবস্থাপনার বিষয়ে আয়োজিত বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন। সভায় মুখ্যমন্ত্রী গৃহপালিত প্রাণীদের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে টিকাকরণের উপরও বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন।

মুখ্যমন্ত্রী আগরতলা পুরনিগম, ধর্মনগর পুর এলাকায় অ্যানিমেল বার্থ কন্ট্রোল সেন্টার এবং আরও ৬টি জেলায় অ্যানিমেল বার্থ কন্ট্রোল সেন্টার নির্মাণের কাজ সহ ২০টি নগর পঞ্চায়েত এলাকায় বেওয়ারিস প্রাণীদের জন্য শেল্টার হাউস নির্মাণের বিষয়ে খোঁজখবর নেন। তিনি বেওয়ারিস প্রাণীদের ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি শুরু করার আগে এই কর্মসূচি সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করার জন্য নির্দেশ দেন।

সভায় মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যে মোট গৃহপালিত বেওয়ারিস প্রাণীর সংখ্যা, বিভিন্ন স্থানের অ্যানিমেল বার্থ কন্ট্রোল সেন্টার এবং বেওয়ারিস প্রাণীর ব্যবস্থাপনায় এখন পর্যন্ত কি কি কাজ করা হয়েছে সেই সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। বেওয়ারিস কুকুর ও অন্যান্য প্রাণীদের ব্যবস্থাপনার কাজে যুক্ত কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিতে বলেন। মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের বিভিন্ন স্থানের গোশালাগুলির সম্পর্কেও খোঁজখবর নেন।সভায় প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের সচিব দীপা ডি. নায়ার বেওয়ারিস প্রাণীদের সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধে এখন পর্যন্ত কি কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

তিনি জানান ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ২,৯৯৮টি বেওয়ারিস কুকুরকে টিকাকরণ, বিভিন্ন বিদ্যালয়ে সচেতনতামূলক শিবির এবং বিভিন্ন স্থানে ১৯৮টি সচেতনতামূলক শিবির করা হয়েছে। এছাড়াও সভায় নগরোন্নয়ন দপ্তরের সচিব মিলিন্দ রামটেকে, আইন দপ্তরের সচিব শঙ্করি দাস, আগরতলার পুর নিগমের কমিশনার সাজু বাহিদ এ, প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের অধিকর্তা ড. নিরজ কুমার চঞ্চল সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে অবহিত করেন। এছাড়া সভায় পরিবহণ দপ্তরের সচিব উত্তম কুমার চাকমা সহ বিভিন্ন দপ্তরের অধিকর্তা ও অন্যান্য আধিকারিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

Exit mobile version