Site icon janatar kalam

উন্নয়ন বনাম বাস্তবতা—বিধানসভায় রাজনৈতিক লড়াই

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- ত্রিপুরা বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণের উপর আনা ধন্যবাদসূচক প্রস্তাব নিয়ে আজ থেকে আলোচনা শুরু হয়েছে। অধিবেশনের দ্বিতীয়ার্ধে পরিষদীয় মন্ত্রী রতন লাল নাথ আলোচনার সূচনা করেন।

প্রস্তাবের উপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে রতন লাল নাথ রাজ্যপালকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তাঁর ভাষণে রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা উঠে এসেছে। তিনি দাবি করেন, “এক ত্রিপুরা শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা” এবং “বিকশিত ত্রিপুরা” গড়ার লক্ষ্যে রাজ্য ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলেছে।

মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দক্ষতা উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসার এবং যুবসমাজকে স্বনির্ভর করে তোলার উপর সরকারের জোর দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি Ayushman Bharat, PM-Kisan, Pradhan Mantri Awas Yojana এবং Swachh Bharat Mission-এর মতো প্রকল্পগুলির সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন।

তিনি কৃষিক্ষেত্রে সহায়ক মূল্যে ধান ক্রয়, আধুনিক কৃষিযন্ত্র বিতরণ, কৃষি পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ এবং উৎপাদিত কৃষিপণ্যের বিদেশে রপ্তানির বিষয়টি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার অগ্রগতি এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশ নিয়েও সরকারের উদ্যোগের কথা বলেন। সোলার শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির কথাও বিশেষভাবে তুলে ধরেন তিনি।

ক্রীড়াক্ষেত্রেও রাজ্যের সাফল্যের কথা তুলে ধরে রতন লাল নাথ জানান, জাতীয় প্রতিযোগিতায় ত্রিপুরার ক্রীড়াবিদরা ৬৮টি স্বর্ণ, ৬৯টি রৌপ্য এবং ৬২টি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন, যা রাজ্যের জন্য গর্বের বিষয়।

তবে বিরোধী পক্ষ এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে। বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, রাজ্যপালের ভাষণে বাস্তব পরিস্থিতির প্রতিফলন নেই এবং সরকারের বিভিন্ন কাজ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

এদিন আলোচনায় অংশ নেন বিধায়ক বীরজিৎ সিনহা, নির্মল বিশ্বাস এবং তফাজ্জল হোসেন। বিরোধীদের আনা ১৪৭টি সংশোধনী প্রস্তাবের বিরোধিতা করে পরিষদীয় মন্ত্রী সকলকে একসঙ্গে “বিকশিত ত্রিপুরা” গড়ার আহ্বান জানান। ধন্যবাদসূচক প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে বিধানসভায় শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তর্ক-বিতর্কে অধিবেশন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

Exit mobile version