জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- সীমান্তপারের যোগাযোগ ও দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে আগরতলা থেকে ঢাকা হয়ে কলকাতাগামী ‘রয়্যাল মৈত্রী’ বাস পরিষেবা শীঘ্রই নিয়মিতভাবে চালু হতে যাচ্ছে। TR01G1171 নম্বরধারী বাসটি এক বছরের বিরতির পর আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে পুনরায় আগরতলায় প্রবেশ করেছে, যা ভারত-বাংলাদেশের স্বাভাবিক পরিবহন সংযোগ পুনঃস্থাপনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, শিগগিরই পাসপোর্ট পরিষেবাও পুনরায় চালু হবে। প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ থেকে আগরতলায় পর্যটক ভিসা পরিষেবা চালু করা হবে। এর ফলে পর্যটক, ব্যবসায়ী এবং দুই দেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের বহু পরিবার সহজে যাতায়াত করতে পারবেন। দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনে আবদ্ধ মানুষের কাছে এই সিদ্ধান্ত নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা রুটে বাস পরিষেবা পুনরায় চালু হলে পর্যটন, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত যাতায়াতে বিশেষ সুবিধা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সীমান্ত বিভাজনে আলাদা থাকলেও ভাষা ও ঐতিহ্যে যুক্ত বহু পরিবারের কাছে এই পরিষেবা কেবল পরিবহন নয়, বরং বন্ধুত্ব ও সম্প্রীতির প্রতীক।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, যাতায়াত স্বাভাবিক হলে সীমান্তপারের বাণিজ্য বাড়বে এবং স্থবির হয়ে পড়া বাজার আবার চাঙা হবে। শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলিও আশাবাদী যে একাডেমিক ও সাংস্কৃতিক বিনিময় পুনরায় শুরু হবে, যা দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও শক্তিশালী করবে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, আখাউড়া হয়ে ‘রয়্যাল মৈত্রী’ বাসের প্রত্যাবর্তন দুই দেশের সদিচ্ছা ও সহযোগিতার প্রতীক। এ ধরনের উদ্যোগ শান্তি, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের প্রতি ভারত ও বাংলাদেশের অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।
ত্রিপুরা জুড়ে সাধারণ মানুষ এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের বিশ্বাস, পরিবহন ও ভিসা পরিষেবা পুনরায় চালু হওয়ার মাধ্যমে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের উষ্ণতা ও পারস্পরিক আস্থা আবারও জোরদার হবে। সীমান্ত করিডোরটি আবারও বন্ধুত্ব, শান্তি ও সমৃদ্ধির সেতুবন্ধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

