জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের প্রভাব এবার অস্ট্রেলিয়াতেও পড়তে শুরু করেছে। সম্ভাব্য তেল সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের নেতৃত্বে দেশটির সরকার নতুন জ্বালানি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
সরকার জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি, সারসহ অন্যান্য জরুরি সামগ্রীর আমদানি নিশ্চিত করতে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ এবং জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস বোয়েন সিডনিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, সোমবার ফেডারেল পার্লামেন্টে একটি নতুন বিল পেশ করা হবে।
এই বিলের মাধ্যমে ‘এক্সপোর্ট ফাইন্যান্স অস্ট্রেলিয়া’-কে বেসরকারি খাতের পক্ষ থেকে জ্বালানি ও অন্যান্য জরুরি পণ্য কেনার ক্ষেত্রে আর্থিক গ্যারান্টি দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হবে। এর ফলে বিদেশ থেকে জাহাজে করে আসা জ্বালানির সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার।
আলবানিজ বলেন, এই সহায়তা সাধারণ ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাজারে উপলব্ধ অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্যই এটি ব্যবহার করা হবে। এতে আমদানিকারকদের আর্থিক ঝুঁকিও কমবে।
বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় জ্বালানির দাম ব্যাপক হারে বেড়েছে এবং বিশেষ করে আঞ্চলিক এলাকাগুলিতে ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। জ্বালানি মন্ত্রী বোয়েন জানান, দেশটির মজুদে এখন প্রায় ৩৯ দিনের পেট্রোল, ৩০ দিনের ডিজেল এবং ৩০ দিনের জেট ফুয়েল রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও সতর্ক করে বলেন, স্বল্পমেয়াদে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আগামী মাসগুলোতে সংকট আরও তীব্র হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে সরকার দিন-রাত কাজ করছে যাতে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি শক্তিশালী পরিকল্পনা তৈরি করা যায়।
এছাড়া, তেল সরবরাহকারী গুরুত্বপূর্ণ দেশ মালয়েশিয়া এবং আসিয়ান অঞ্চলের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা চলছে বলেও জানান আলবানিজ। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সোমবার জাতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকও ডাকা হয়েছে।
অন্যদিকে, বিরোধী দল সরকারের কাছে তিন মাসের জন্য জ্বালানির উপর আরোপিত শুল্ক অর্ধেক করার দাবি জানিয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের উপর চাপ কিছুটা কমানো যায়।

