জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও সুদৃঢ় করতে এবং অপরাধ প্রবণতা কমাতে পুলিশকে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে আরও দক্ষ হয়ে উঠতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা।
আজ অরুন্ধতীনগরস্থিত মনোরঞ্জন দেববর্মা স্মৃতি পুলিশ স্টেডিয়ামে আয়োজিত ‘পুলিশ সপ্তাহ প্যারেড ২০২৬’-এর প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি বলেন, সমাজে অপরাধের ধরন ও পদ্ধতি পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই আরক্ষা বাহিনীকে আধুনিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। পুলিশের পোশাককে গর্ব ও মর্যাদার প্রতীক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই পোশাকের সম্মান রক্ষা করার পাশাপাশি কাজের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন শাখার জওয়ানদের প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। তিনি জানান, বর্তমানে রাজ্যে শান্তির পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। ২০২৫ সালে বিভিন্ন অপরাধের হার ৮.৩০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের ক্ষেত্রে ত্রিপুরা ২৮টি রাজ্যের মধ্যে নিচের দিক থেকে একাদশতম স্থানে রয়েছে। মহিলাদের নিরাপত্তা জোরদারে রাজ্যে ৯টি মহিলা থানা চালু রয়েছে এবং প্রতিটি থানায় ২৪ ঘণ্টার মহিলা হেল্পলাইন পরিষেবা চালু আছে।
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে জাতীয় সড়কসহ অন্যান্য সড়কে ১৬টি ব্ল্যাক স্পট ও ৮৪টি দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গত এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনা ৮.৮২ শতাংশ এবং দুর্ঘটনায় মৃত্যুহার ১৩ শতাংশ কমেছে বলেও জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার নেশামুক্ত ত্রিপুরা গঠন। এ লক্ষ্যে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এনডিপিএস মামলার নথিভুক্তির হার ১১.০৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং গত কয়েক বছরে প্রায় ১৬৪১.৮৯ কোটি টাকার নেশাদ্রব্য বাজেয়াপ্ত ও ধ্বংস করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সীমান্ত সুরক্ষায় বিএসএফ-এর পাশাপাশি পুলিশের অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। চলতি বছরে ৫৭৬ জন অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ও ১০২ জন দালালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় সাইবার পুলিশ স্টেশন চালুসহ প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্দেশনায় আরক্ষা বাহিনীকে আধুনিক ও শক্তিশালী করে তুলতে একাধিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান। সম্প্রতি ৯৫৩ জন কনস্টেবল নিয়োগ করা হয়েছে; শীঘ্রই আরও ৯১৬ জন কনস্টেবল ও ২১৮ জন সাব-ইনস্পেক্টর নিয়োগ করা হবে।
অনুষ্ঠানে ১১৪টি নতুন পুলিশ বাইক ও ২২টি পুলিশ ভ্যানের যাত্রার সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি আরক্ষা বাহিনীর আয়োজিত রক্তদান শিবির পরিদর্শন করে রক্তদাতাদের উৎসাহিত করেন। এদিন ৫০০ জন জওয়ান স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য পুলিশ আধিকারিক ও জওয়ানদের পুরস্কৃত করা হয় এবং আরক্ষা জওয়ানদের পরিবারের মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠান শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায় এআই প্রযুক্তি সংযুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে জিপিএস ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগও নেওয়া হবে।

