জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- ত্রিপুরার ঊনকোটি জেলায় ভয়াবহ হিংসার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়াল ফটিকরায় বিধানসভা এলাকার সাইদারপুর–শিমুলতলা অঞ্চলে। সশস্ত্র দুষ্কৃতীদের তাণ্ডবে একাধিক বাড়ি, দোকান ও যানবাহনে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। আকস্মিক এই অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরে এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়, প্রাণভয়ে ঘরছাড়া হন বহু সাধারণ মানুষ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পরিকল্পিতভাবেই এই হামলা চালানো হয়। একটি কাঠের দোকান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়, খড়ের গাদা, একাধিক বসতবাড়িতে আগুন লাগানো হয় এবং বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। ঘটনার সময় হামলার কবলে পড়ে আহত হন বেশ কয়েকজন নিরীহ বাসিন্দা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে প্রশাসন। টিএসআর, সিআরপিএফ ও আসাম রাইফেলসের জওয়ানরা এলাকা ঘিরে ফেলে। ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং নজরদারির জন্য ড্রোন ব্যবহার করা হয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান জেলা শাসক ডা. তমাল মজুমদার ও ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার অবিনাশ রাই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি, কারফিউ ঘোষণা এবং ৪৮ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়।
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এসপি অবিনাশ রাই জানান, ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, “একদল দুষ্কৃতী পরিকল্পিতভাবে অগ্নিসংযোগ চালিয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূজার চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে এই হিংসার সূত্রপাত। এক চালক চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় শুরু হয় বচসা, যা অল্প সময়ের মধ্যেই ভয়াবহ সংঘর্ষ, মারধর ও অগ্নিসংযোগে রূপ নেয়। এই ঘটনা আইনশৃঙ্খলার দুর্বল দিককে সামনে এনে দিয়েছে বলে মত স্থানীয়দের।
প্রশাসনের দাবি, বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যদিও এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিরাপত্তা টহল জোরদার করা হয়েছে এবং ঘটনাকে কোনওভাবেই সাম্প্রদায়িক রং দেওয়ার চেষ্টা হলে কড়া হাতে মোকাবিলা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে প্রশাসন।
ফটিকরায়ের এই হিংসাত্মক ঘটনা ফের একবার উৎসবের নামে চাঁদাবাজি ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। শান্তি ফেরাতে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠছে সর্বস্তর থেকে।

