জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নমূলক উত্তর-পূর্ব কর্মসূচি (PM-DevINE)-এর আওতায় রাজ্যে ২৭.৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সমন্বিত আগরউড (Agarwood) ক্লাস্টার স্থাপন করছে রাজ্য সরকার। এই ক্লাস্টারে আগর চারা নার্সারি, বাগান, তেল নিষ্কাশন কেন্দ্র (ডিস্টিলেশন ইউনিট) এবং দক্ষতা উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাও থাকবে। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে রাজ্যের ৭ হাজারের বেশি মানুষ উপকৃত হবেন, যার মধ্যে নারী ও যুবসমাজ বিশেষভাবে লাভবান হবেন।
মঙ্গলবার আগরতলার প্রজ্ঞা ভবনে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী পঞ্চম আন্তর্জাতিক আগরউড কনক্লেভ ও বায়ার-সেলার মিট-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহা।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, আগরতলা নামটির সঙ্গে আগর গাছের ঐতিহাসিক যোগ রয়েছে। একসময় এই অঞ্চলে বিপুল সংখ্যক আগর গাছ ছিল এবং সেই কারণেই ত্রিপুরার রাজপরিবার এই শহরের নামকরণ করে আগরতলা। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিভিন্ন বৈঠকে রাজ্যে আগর চাষের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ‘অষ্টলক্ষ্মী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। দেশের মোট আগর গাছের প্রায় ৯৬ শতাংশ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত। বর্তমানে প্রায় ১.৫ কোটি আগর গাছ নিয়ে ত্রিপুরা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আগরউড উৎপাদক রাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, ধর্মনগরের কদমতলায় আগরউড বাজার স্থাপনের কাজ প্রায় শেষের পথে, যেখানে ক্রেতা-বিক্রেতারা সরাসরি বাণিজ্য করতে পারবেন। পাশাপাশি, উত্তর-পূর্ব কাউন্সিলের ১৫ কোটি টাকা অর্থানুকূল্যে গড়ে উঠছে আন্তর্জাতিক আগরউড ট্রেড ও রিসার্চ সেন্টার, যা আগামী দিনে গবেষণা ও বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠবে। রপ্তানিকারকদের সুবিধার্থে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে একটি সিঙ্গেল-উইন্ডো অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজও চলছে বলে তিনি জানান।
আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের স্বাগত জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আগর চাষিদের আশ্বাস দেন যে রাজ্য সরকার সবসময় তাঁদের পাশে রয়েছে। শিল্প ও বাণিজ্য প্রসারে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগর চাষ রাজ্যের সার্বিক সমৃদ্ধি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে এবং ত্রিপুরার আগরউড আবারও দেশের আগর বাণিজ্যে নেতৃত্ব দেবে। আগরউডকে ত্রিপুরার অন্যতম মূল্যবান সম্পদ ও রাজকীয় ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি প্রতিনিধিদের রাজ্যের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা বলেন, ত্রিপুরার জলবায়ু আগর চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। তিনি রাজ্যের মানুষকে আগর চাষে আরও উৎসাহিত করার পাশাপাশি বিজ্ঞানভিত্তিক প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন। রাজ্যে আগর শিল্প গড়ে তুলতে সরকার সবরকম সহযোগিতা করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। একইসঙ্গে আগরভিত্তিক বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনে রাজ্যের কাঁচামাল ব্যবহারের ওপর জোর দেন এবং বাইরের রাজ্যের ব্যবসায়ীদের এই ক্ষেত্রে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের বৈদেশিক বাণিজ্য বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেল শ্রিবরণী, PM-DevINE ও NERAMAC-এর যুগ্ম সচিব অংশুমান দে, PCCF আর. কে. শ্যামল এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রকের বিশেষ সচিব সুশীল কুমার অবস্থি। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্সের আঞ্চলিক পরিচালক ঈশান্ত্র শোভাপণ্ডিত।
অনুষ্ঠান শেষে মুখ্যমন্ত্রী, বনমন্ত্রী ও অন্যান্য অতিথিরা প্রজ্ঞা ভবনের বাইরে আয়োজিত আগরভিত্তিক বিভিন্ন পণ্যের স্টল পরিদর্শন করেন।

