জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- সোমবার সকালে নয়াদিল্লির ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালে শহিদ বীর সেনানীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের আনুষ্ঠানিক সূচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। স্মারকে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করে দেশরক্ষায় আত্মবলিদান দেওয়া সাহসী সৈনিকদের প্রতি জাতির পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।
এই অনুষ্ঠানে ইন্টার-সার্ভিসেস গার্ডসের পক্ষ থেকে ‘সালামী শস্ত্র’ ও পরে ‘শোক শস্ত্র’-এর মাধ্যমে শহিদদের সম্মান জানানো হয়। গার্ড দলে একজন অফিসার এবং তিন বাহিনীর সাতজন করে মোট ২১ জন ইননার গার্ড অংশ নেন।
শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান, সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল দিনেশ কে. ত্রিপাঠী এবং প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী সঞ্জয় শেঠ। এদিন প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল নোটবুকে নিজের ভাবনাও লিপিবদ্ধ করেন।
এর আগে, প্রধানমন্ত্রী মোদি দেশবাসীকে প্রজাতন্ত্র দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, এই জাতীয় উৎসব নাগরিকদের মধ্যে নতুন শক্তি ও উদ্দীপনা জোগাবে এবং ‘উন্নত ভারত’ গড়ার সম্মিলিত সংকল্পকে আরও দৃঢ় করবে। সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ তিনি লেখেন, “সমস্ত দেশবাসীকে প্রজাতন্ত্র দিবসের আন্তরিক শুভেচ্ছা। ভারতের সম্মান ও গৌরবের প্রতীক এই জাতীয় উৎসব আপনাদের জীবনে নতুন শক্তি ও উৎসাহ বয়ে আনুক।”
অন্য এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রজাতন্ত্র দিবস আমাদের স্বাধীনতা, সংবিধান ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের শক্তিশালী প্রতীক, যা জাতি গঠনের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।
এ বছর প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কস্তা এবং ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডার লেয়েন।
প্রধানমন্ত্রীর মাসিক বেতার অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এর অংশগ্রহণকারী, কর্তব্য ভবন নির্মাণে যুক্ত শ্রমিক, লখপতি দিদি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রায় ১০ হাজার বিশেষ অতিথি প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজ প্রত্যক্ষ করবেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মতে, এই তালিকায় রয়েছেন আয় ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অবদান রাখা ব্যক্তি, সেরা উদ্ভাবক, গবেষক, স্টার্টআপ, স্বনির্ভর গোষ্ঠী এবং সরকারি প্রকল্পে উৎকৃষ্ট কর্মক্ষমতা দেখানো নাগরিকরা।
এ বছরের কুচকাওয়াজে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি, ব্রহ্মোস ও আকাশ ক্ষেপণাস্ত্রসহ ভারতের সামরিক শক্তি এবং ৩০টি মনোমুগ্ধকর ঝাঁকির মাধ্যমে দেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরা হবে। অপারেশন সিন্দুরের পর এটি প্রথম প্রজাতন্ত্র দিবস প্যারেড, যেখানে অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা প্ল্যাটফর্ম, ২৯টি বিমানের ফ্লাইপাস্ট এবং প্রায় ২,৫০০ শিল্পীর সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে ‘বন্দে মাতরম’ ও ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর উদযাপন করা হবে।

