জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- বুধবার এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হওয়ার পর বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হলো। তাঁর রাজনৈতিক শক্ত ঘাঁটি বারামাটির বিদ্যা প্রতিষ্ঠান ময়দানে সম্পন্ন হয় শেষকৃত্য।
শেষ শ্রদ্ধা জানাতে হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হন। অজিত পাওয়ারের পুত্র জয় পাওয়ার ও পার্থ পাওয়ার শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন এবং মুখাগ্নি দেন। গোটা এলাকাজুড়ে ‘অজিত দাদা অমর রহে’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পরিবেশ—যা প্রমাণ করে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই প্রবীণ এনসিপি নেতার গভীর জনপ্রিয়তা ও সম্মান।
শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনবিশ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গडकরি, এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ার, কংগ্রেস নেতা সুশীল কুমার শিন্ডে ও তাঁর কন্যা প্রণীতি শিন্ডে, পাশাপাশি অভিনেতা রিতেশ দেশমুখ। অজিত পাওয়ারের স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার এবং পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্য, ভাইপো রোহিত পাওয়ারও পুরো সময় উপস্থিত ছিলেন।
‘অজিত দাদা’ নামে পরিচিত অজিত পাওয়ারের জন্ম ১৯৫৯ সালের ২২ জুলাই, আহমেদনগর জেলার দেওলালি প্রবরা অঞ্চলে। সমবায় আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু। দুধ সমিতি, চিনি কল, সমবায় ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকার পর তিনি মূলধারার রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ১৯৯১ সালে বারামাটি থেকে লোকসভায় নির্বাচিত হলেও পরে রাজ্য রাজনীতিতে মনোনিবেশ করতে আসন ছেড়ে দেন কাকা শরদ পাওয়ারের জন্য।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি মহারাষ্ট্রের দীর্ঘতম সময়ের উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পরিচিত হন। পৃথক পৃথক সময়ে পৃথ্বীরাজ চবন, দেবেন্দ্র ফডনবিশ, উদ্ধব ঠাকরে ও একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন সরকারে মোট ছয় দফায় এই দায়িত্ব সামলান। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক সামলে রাজ্যের নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন তিনি।
এই কাল্পনিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিমান দুর্ঘটনায় আরও পাঁচজনের মৃত্যুর পাশাপাশি অজিত পাওয়ারের প্রয়াণে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক গভীর শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্য সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে এবং সরকারি ভবনে অর্ধনমিত জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

