Site icon janatar kalam

মোদি-লুলা বৈঠকে বাণিজ্য ২০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজ ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইঞ্চিও লুলা দা সিলভা-র সঙ্গে বিস্তৃত বৈঠক করেন। বৈঠকে বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, কৃষি, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ এবং গ্লোবাল সাউথ সহযোগিতা সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয় বলে বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে।

দুই নেতা এক অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থার পক্ষে তাঁদের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রসংঘ, বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। সন্ত্রাসবাদ ও তার মদতদাতাদের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক লড়াই জোরদারে দৃঢ় অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তাঁরা।

বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ডিজিটাল সহযোগিতা, ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান বিনিময়, স্বাস্থ্য, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই), উদ্যোগ ও গণযোগাযোগ সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোট ১০টি ফলাফল চূড়ান্ত হয়। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

যৌথ বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, প্রেসিডেন্ট লুলার নেতৃত্বে ভারত-ব্রাজিল সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, লাতিন আমেরিকা অঞ্চলে ব্রাজিলই ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। আগামী পাঁচ বছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তাঁর কথায়, “ভারত-ব্রাজিল বাণিজ্য কেবল পরিসংখ্যান নয়, এটি পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন।”

প্রধানমন্ত্রী জানান, ব্রাজিলে ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার সেন্টার অফ এক্সেলেন্স স্থাপনের বিষয়ে দুই দেশ কাজ করছে। প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা শুধু দুই দেশের জন্যই নয়, সমগ্র গ্লোবাল সাউথের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও রেয়ার আর্থস সংক্রান্ত চুক্তিকে স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেন তিনি। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও সহযোগিতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, ভারত ও ব্রাজিল একসঙ্গে কাজ করলে গ্লোবাল সাউথের কণ্ঠস্বর আরও শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে।

এর আগে রাষ্ট্রপতি ভবনের প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানান। প্রেসিডেন্ট লুলা রাজঘাটে গিয়ে মহাত্মা গান্ধী-র প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বিদেশ মন্ত্রক এক সামাজিক মাধ্যম বার্তায় জানায়, মহাত্মা গান্ধীর আদর্শ আজও ভারত-ব্রাজিল অংশীদারিত্বকে অনুপ্রাণিত করে।

উল্লেখ্য, ২০০৬ সাল থেকে ভারত ও ব্রাজিল কৌশলগত অংশীদার। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, জনগণের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং বহুমুখী সহযোগিতার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমাগত গভীর হয়েছে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, কৃষি, স্বাস্থ্য, নবায়নযোগ্য শক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারিত হয়েছে।

দুই দেশ ব্রিকস, আইবিএসএ, জি-২০, জি-৪, ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স, গ্লোবাল বায়োফুয়েল অ্যালায়েন্স এবং কোয়ালিশন ফর ডিজাস্টার রেজিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচারসহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক মঞ্চেও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। রাষ্ট্রসংঘ, ডব্লিউটিও এবং ইউনেস্কোর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলিতেও দুই দেশের সহযোগিতা উল্লেখযোগ্য।

Exit mobile version