জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- কেন্দ্রের বিজেপি সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পরিকল্পনার মাধ্যমে মনরেগা আইন কার্যত বাতিল করেছে বলে অভিযোগ করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র—একদিকে অর্থ লোপাট, অন্যদিকে কর্পোরেটদের স্বার্থসিদ্ধির অপচেষ্টা।
মঙ্গলবার আগরতলায় কংগ্রেস ভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে আশীষ সাহা বলেন, মনরেগার পরিবর্তে কেন্দ্র সরকার যে ‘ভিবি জিরাম জি’ প্রকল্প চালু করেছে, তাতে দেশের অধিকাংশ সাধারণ মানুষ রোজগারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন। তিনি অভিযোগ করেন, এই নতুন প্রকল্প সর্বত্র চালু করা হচ্ছে না এবং কোথায় কাজ হবে, কারা কাজ পাবে—সবই কর্পোরেটদের ইচ্ছায় নির্ধারিত হবে।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আরও বলেন, ইউপিএ সরকারের আমলে চালু হওয়া মনরেগা প্রকল্পে গ্রামাঞ্চলের প্রতিটি পরিবার সমানভাবে কাজের সুযোগ পেত এবং সেখানে প্রায় ৬০ শতাংশ মহিলা শ্রমিক যুক্ত ছিলেন। কিন্তু নতুন ব্যবস্থায় মহিলাদের জন্য রোজগারের সুযোগ কমে মাত্র ২০ শতাংশে নেমে এসেছে। পাশাপাশি দেশের সব গ্রামাঞ্চলেও এই প্রকল্প কার্যকর হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আশীষ সাহার বক্তব্য, বিজেপি সরকার পুঁজিপতি ও কর্পোরেট শ্রেণিকে তোষণ করতে গিয়ে শ্রমিক ও গরিব মানুষের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। কর্পোরেটদের হাতে প্রকল্প তুলে দিয়ে শাসক দলের নেতাদের লুটপাটের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
মনরেগা নিয়ে সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, “বছরে ৫০ দিনের কাজ দিতে ব্যর্থ সরকার এখন ১২৫ দিনের কাজের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। এটি সম্পূর্ণ ভাঁওতাবাজি। মনরেগা নিয়ে চরম দুর্নীতি হয়েছে—গ্রামের প্রধান ও উপপ্রধানরা ফুলে-ফেঁপে উঠেছে, অথচ সাধারণ মানুষ কাজ পায়নি।”
এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটি দেশজুড়ে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে বলে জানান আশীষ সাহা। কর্মসূচি অনুযায়ী,
৩০ জানুয়ারি, মহাত্মা গান্ধীর শহিদান দিবসে ‘মনরেগা বাঁচাও সংগ্রাম’-এর অংশ হিসেবে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হবে।
৬ ফেব্রুয়ারি, মনরেগা রক্ষার দাবিতে প্রতিটি জেলায় জেলা শাসকদের কাছে ডেপুটেশন দেওয়া হবে।
১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে, রাজ্যপালের কাছে লোকপাল ভবনে ডেপুটেশন জমা দেওয়া হবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে আশীষ কুমার সাহা স্পষ্টভাবে বলেন, কংগ্রেস শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের স্বার্থে লড়াই চালিয়ে যাবে এবং গরিব মানুষের রোজগারের অধিকার রক্ষায় রাজপথে আন্দোলন আরও তীব্র হবে।

