জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- রাজ্য ও সরকারের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে মুখ্যমন্ত্রীকে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সংযত ও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিলেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। বুধবার ত্রিপুরা বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার কক্ষে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এই মত প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করার আহ্বান জানান।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিরোধী দলনেতা বলেন, গত কয়েক মাস ধরে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে কাজ করে চলেছেন, যা শাসক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও রাজ্য সরকারের প্রধান হিসেবে স্বাভাবিক। তবে বর্তমানে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিসরে এক ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তাঁর মন্তব্য। জিতেন্দ্র চৌধুরীর অভিযোগ, বিরোধী দলকে মোকাবিলা করার পরিবর্তে মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর দল এখন একই জোটভুক্ত শরিক দলের বিরুদ্ধেই বেশি তৎপর হয়ে উঠেছেন। এমনকি প্রকাশ্যে সেই দলের বিরুদ্ধে আঙুল তুলে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কিছু মন্তব্য বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে।
বিরোধী দলনেতা আরও বলেন, সাংবিধানিক দিক থেকে মুখ্যমন্ত্রী হলেন রাজ্যের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক নির্বাহী পদাধিকারী। সেই কারণে তাঁর প্রতিটি বক্তব্যের বিশেষ গুরুত্ব ও প্রভাব রয়েছে। কিন্তু আবেগপ্রবণ বা বিতর্কিত মন্তব্য শুধু মুখ্যমন্ত্রীর পদের মর্যাদাকেই ক্ষুণ্ণ করে না, রাজ্যের ভাবমূর্তির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে তিনি দাবি করেন। তাই রাজ্য ও সরকারের সুনাম রক্ষার স্বার্থে মুখ্যমন্ত্রীকে আরও দায়িত্বশীল ও সংযত ভাষা ব্যবহারের পরামর্শ দেন জিতেন্দ্র চৌধুরী।
সাংবাদিক সম্মেলনে বিরোধী দলনেতা মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যের উল্লেখ করে তীব্র আপত্তি জানান। তিনি বলেন, বিভিন্ন সভায় মুখ্যমন্ত্রী ১৯৮০ সালের দাঙ্গা এবং পাপাই সাহা হত্যাকাণ্ডের জন্য সিপিআই(এম)-কে দায়ী করেছেন। এই ধরনের মন্তব্যকে তিনি অনভিপ্রেত ও বিতর্কিত বলে আখ্যা দেন এবং বিষয়গুলি নিয়ে নিজের অসন্তোষ স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেন।
বিরোধী দলনেতার বক্তব্য অনুযায়ী, দায়িত্বশীল পদে থেকে অতীত ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমন মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে। তাই সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে মুখ্যমন্ত্রীকে বক্তব্য প্রদানে সংযম ও বিচক্ষণতা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

