জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি:- রাজ্যব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ অন্বেষণ কর্মসূচি। যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের উদ্যোগে গত ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু এই কর্মসূচিতে রাজ্যের সবগুলি ব্লক, পুরপরিষদ, নগর পঞ্চায়েত এবং পুরনিগম এলাকার ২৪৭টি জোনের ৩৪ হাজার ৫৭১জন ক্ষুদে ক্রীড়াবিদ অংশগ্রহণ করে। আজ সচিবালয়ের প্রেস কনফারেন্স হলে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে যুব বিষয়ক এবং ক্রীড়া দপ্তরের মন্ত্রী টিংকু রায় এই কথা জানান।
তিনি জানান, এই প্রথমবার সারা রাজ্যে তৃণমূলস্তর থেকে ক্রীড়াবিদদের তাদের প্রতিভার নিরীখে তুলে আনার উদ্দেশ্যে এই কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। প্রতিভাবান খেলোয়াড়গণ ১০ বছর এবং ১৪ বছর এই দুটি বিভাগে ফুটবল, খো-খো, কাবাডি এবং অ্যাথলেটিক্স এই খেলাগুলিতে অংশগ্রহণ করে। রাজ্যের সমস্ত পুরপরিষদ, নগর পঞ্চায়েত, ব্লক, পুরনিগম থেকে বাছাইকৃত খেলোয়াড়গণ মহকুমা এবং জেলাস্তরে আংশগ্রহণ করে।
সাংবাদিক সম্মেলনে ক্রীড়ামন্ত্রী টিংকু রায় জানান, আগামী ২১ মার্চ উমাকান্ত ময়দানে রাজ্যের জেলাস্তর থেকে বাছাইকৃত ক্ষুদে খেলোয়াড়দের নিয়ে রাজ্যন্তরীয় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এই প্রতিভা অন্বেষণের লক্ষ্যে যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তর, তথ্য প্রযুক্তি দপ্তরের সহায়তায় টিএসএসবি লাইভ নামক একটি অ্যাপও চালু করেছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারি সমস্ত খেলোয়াড়দের ডেটাবেসও তৈরী করা হয়েছে। ক্রীড়ামন্ত্রী রাজ্যের ৮টি জেলার নথীভুক্ত খেলোয়াড়দের তথ্যও সাংবাদিক সম্মেলনে তুলে ধরেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন এই ধরণের কর্মসূচির মাধ্যমে পরবর্তী সময় খেলোয়াড়দের আরও উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করানো সম্ভব হবে এবং খেলোয়াড়দের সুপ্ত প্রতিভা খুঁজে পাওয়ার পাশাপাশি খেলোয়াড়দের ক্রীড়ামেধা বৃদ্ধি করার আরও সুযোগ ভবিষ্যতে তৈরী হবে। ক্রীড়ামন্ত্রী আরও জানান, আগামী ২৩ মার্চ ত্রিপুরা বিধানসভায় অনুষ্ঠিত হবে রাজ্যভিত্তিক যুব সাংসদ প্রতিযোগিতা। রাজ্যের ৮টি জেলা থেকে নির্বাচিত ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সী ৪০ জন প্রতিভাবান যুবক-যুবতী এতে অংশগ্রহণ করবে। বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দৃষ্টিভঙ্গিকে পাথেয় করে দেশের যুবক-যুবতীদের নিয়ে এই কর্মসূচি ২০১৯ সালে শুরু করা হয়।
মূলত দেশাত্মবোধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ভারতকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে যুব সম্প্রদায়ের ভাবনা এই বিষয়ের উপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে রাজ্যভিত্তিক যুব সাংসদ প্রতিযোগিতায়। রাজ্যস্তর থেকে নির্বাচিত ৩জন ক্রীড়া প্রতিযোগীকে পরবর্তী সময় দিল্লীতে কেন্দ্রীয়স্তরে যুব সাংসদ প্রতিযোগিতায় পাঠানো হবে। ক্রীড়ামন্ত্রী জানান, এই কর্মসূচির অঙ্গ হিসাবে আগামী ২৩ মার্চ উমাকান্ত মাঠে একটি মেগা রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের সচিব ড. পি কে চক্রবর্তী এবং দপ্তরের অধিকর্তা এস বি নাথ।